দখল হস্তান্তর ছাড়া হেবা বৈধ হবে কি?

নিউজ ডেস্ক

শ্যামল সিলেট

বাবার পক্ষ থেকে ছেলেকে জমি বা কোনো সম্পত্তি হেবা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, এমনকি লিখিত দলিলও করা হয়েছে। কিন্তু হেবা করার পরও যদি বাবা নিজেই সেই সম্পত্তি ভোগদখল করতে থাকেন এবং ছেলেকে জমিটির দখল বুঝিয়ে না দেন, তাহলে শুধু দলিল করে দেওয়ার কারণেই কি ওই হেবা কার্যকর হয়ে যাবে? ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এর উত্তর হলো—না।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, হেবা বা দান সম্পূর্ণ ও কার্যকর হওয়ার জন্য শুধু মৌখিকভাবে দান ঘোষণা করা কিংবা লিখিত দলিল করে দেওয়া যথেষ্ট নয়। হেবাকৃত সম্পত্তি হেবাগ্রহীতার দখল ও হস্তগত করে দেওয়াও জরুরি। ইসলামী পরিভাষায় যাকে ‘কব্জা’ (قبض) বলা হয়।

অতএব, কোনো বাবা তার একাধিক ছেলের মধ্যে একজনকে কোনো জায়গা হেবা করে দেওয়ার পরও যদি নিজেই ওই জায়গার ভোগদখল ও কর্তৃত্ব বজায় রাখেন এবং ছেলেকে সম্পত্তিটির দখল বুঝিয়ে না দেন, তাহলে শুধু হেবা ঘোষণা বা লিখিত দলিলের মাধ্যমে হেবা পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

দখল হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত হেবা সম্পন্ন হবে না। পরবর্তীতে যখন হেবাকৃত সম্পত্তির দখল হেবাগ্রহীতার কাছে হস্তান্তর করা হবে, তখন হেবা কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে হজরত নদর ইবনে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, হজরত আনাস (রা.) তাকে তার ঘরের অর্ধেক হেবা করে দেন। তখন আবু বুরদা (রহ.) বলেন, ‘যদি তুমি এটা পছন্দ কর যে তা তোমার জন্য বৈধ হোক, তবে তা গ্রহণ কর (দখল বুঝে নাও)। কেননা, ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) দান-উপহারের বিষয়ে ফয়সালা করেছেন যে, যা কব্জা করা বা দখল বুঝে নেওয়া হয় তা বৈধ (কার্যকর), আর যা কব্জা করা হয় না তা (মৃত্যুর পর) উত্তরাধিকার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।’

হজরত নদর (রা.) বলেন, এরপর তিনি ইয়াযিদ আর-রিশককে ডাকলেন এবং তিনি তা বণ্টন করে দিলেন।

(সূত্র: আস-সুনানুল কুবরা লিলবাইহাকি, কিতাবুল হিবাত, বাবু মা জা-আ ফি হিবাতিল মুশা, দারুল ফিকর, ৯/১৫৮, হাদিস নম্বর-১২১৮৬)

অর্থাৎ, হেবা সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে ‘কব্জা’ বা দখল হস্তান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো সম্পত্তি হেবা করার পরও দাতা যদি আগের মতোই তার দখল ও কর্তৃত্ব বজায় রাখেন এবং হেবাগ্রহীতাকে দখল বুঝিয়ে না দেন, তাহলে শুধু লিখিত দলিলের ওপর ভিত্তি করে হেবা কার্যকর হয়েছে বলা যাবে না।

 

 শিরোনাম
এক দশকে এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই : আইজিপি শাহপরান (রহ.) মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন সিসিক প্রশাসক দীর্ঘ এক যুগ পর দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সংবর্ধিত সাবেক যুবদল নেতা আশিক আত্মসাৎকৃত চা শ্রমিকের পিএফ ফান্ডের টাকা উদ্ধার, ফেরত পেল পরিবার ‘রাসূল (সা.)-এর সুশাসন ও জীবন দর্শনই শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির পথ’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন: সিসিক প্রশাসক সিলেটে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, এক দিনে হাসপাতালে ১১৪ বিপৎসীমার কাছাকাছি পদ্মার পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত মৌলভীবাজারে সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের জরিমানা