সিলেটে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, এক দিনে হাসপাতালে ১১৪
সিলেট বিভাগে হাম, নিউমোনিয়া ও রুবেলার সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আক্রান্তের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শিশু রোগীর চাপ।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৭৬, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। এ সময়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬০ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৮, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৪, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৫, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৬, কোম্পানীগঞ্জে ১০, বালাগঞ্জে ২ এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৫৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫০ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১০ জন, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ২৫ জন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৫ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন। তবে শেষ ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের জেলাওয়ারি মৃত্যুর তথ্যানুযায়ী, সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগ মিলিয়ে মোট ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৬৫ জন, হবিগঞ্জে ২২ জন, মৌলভীবাজারে ১৪ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘সিলেটে গত মার্চের শেষ দিক থেকে হামের রোগী বাড়তে শুরু করে এবং গত প্রায় ছয় মাস ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। মাঝে রোগী বাড়লেও বর্তমানে নতুন রোগী ভর্তির হার কমতে শুরু করেছে। টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকার আওতায় আনা, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত ৪ সেপ্টেম্বর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে প্রায় ২০০ জন রোগী ভর্তি থাকলেও বর্তমানে তা কমে ১৪১ জনে নেমে এসেছে। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব, পুষ্টিহীনতা এবং টিকা গ্রহণে অনীহার কারণে সিলেটে হামের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।’
ওষুধ সংকটের গুঞ্জনকে তথ্য বিভ্রান্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতালে রয়েছে এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেছে। রোগীদের অবস্থার ভিত্তিতে বাড়িতে, হাসপাতালে এবং গুরুতর রোগীদের আইসিইউসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে সিলেটকে হামের ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের সবাই সর্বাত্মকভাবে কাজ করছেন।’

