যেভাবে হাসিল করবেন শবে কদরের ফযিলত
মুমিনমাত্রেরই কর্তব্য হল কদর রজনীর পূর্ণ কদর করা। অন্তত এ রাতে বিলকুল গাফেল না থাকা। রমযান মাসের ফরয নামাযগুলো জামাতের সাথে আদায় করার মাধ্যমে কদর রজনীর ন্যূনতম কদর হতে পারে। হাদীস শরীফে এসেছে,
যে ব্যক্তি ইশার নামায জামাতে আদায় করল সে যেন অর্ধ রজনী কিয়াম করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাযও জামাতে আদায় করল সে যেন পূর্ণ রাত নামায পড়ল। সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৬
তাই এ মাসে জামাতে নামাযের প্রতি সবিশেষ যত্নবান হওয়া জরুরি। তাহলে আশা করা যায় শবে কদরের ন্যূনতম ফযীলত থেকে মাহরূম হব না ইনশাআল্লাহ।
★শবে কদরের ক্ষেত্রে শুধু সাতাইশ রমাযানকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া আদৌ ঠিক কিনা?
এ ব্যাপারে নিম্নোক্ত হাদিসগুলো দেখা যেতে পারে-
(১) আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল সা. বলেন,
স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুলকদর দেখানো হল। কিন্তু আমার এক স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ায় আমি তা ভুলে গিয়েছি। অতএব, তোমরা তা রমাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর। (সহীহ বুখারী, অধ্যায়: লাইলাতুল কাদরের ফযীলত।) তবে হ্যাঁ! শেষ সাত দিনের বেজোড় রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
(২)হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.-হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,কয়েকজন সাহাবী রমাযানের শেষ সাত রাত্রিতে স্বপ্ন মারফতে শবে কদর হতে দেখেছেন। সাহাবীদের এ স্বপ্নের কথা জানতে পেরে নবী সা.বলেন,“আমি দেখতেছি তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে যাচ্ছে শেষ সাত রাত্রিতে। অতএব কেউ চাইলে শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে পারে।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
আবার কেউ সাতাইশ তারিখের ব্যাপারে সুনিশ্চিতের অভিমত পেশ করেন। কিন্তু রাসুল (সা.) হতে সুনির্দিষ্ট করে সাতাইশ রমাযান শবে কদর সংগঠিত হওয়ার ব্যাপারে কোন হাদিস পাওয়া যায়নি।
তবে! এক্ষেত্রে কিছুসংখ্যক সাহাবির অভিমত বর্ণিত রয়েছে। যেমন; ইবনে আব্বাস (রা:), মুআবিয়া, উবাই ইবনে কা’ব (রা:)।
তাই, সাহাবিদের মতের উপর ভিত্তি করে, সাতাইশের রাতে লাইলাতুলকদর সংগঠিত হওয়াটা অধিক সম্ভাবনাযুক্ত বলা যেতে পারে। সহিহ (সঠিক) কথা হল, শবে কদর কখনো ২১, কখনো ২৩, কখনো ২৫, কখনো ২৭ আবার কখনো ২৯ রাতে হতে পারে।
সুতরাং শুধু সাতাইশ তারিখ নয়, বরং কোন ব্যক্তি যদি রমাযানের শেষ দশকের উপরোক্ত পাঁচটি রাত জাগ্রত হয়ে ইবাদত-বন্দেগী করে তবে নিশ্চিতভাবে শবে কদর পাবে। কিন্তু শুধু সাতাইশ'র রাত্রি জাগলে শবে কদর পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই।
শবে কদরের দুআঃ
লাইলাতুল কদর যেহেতু বিশেষ রজনী, তাই এ রাতে বিশেষ কিছুই চাওয়া দরকার।তো আমি বিশেষভাবে কী চাইব এবং কীভাবে চাইব? আল্লাহর রাসূল সা. আমাদেরকে তাও শিখিয়ে দিয়েছেন। আম্মাজান হযরত আয়েশা রা.হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,একবার আমি রাসুল সা.কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বলে দিন, লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা যদি আমি জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?
রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি বলবে, উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওয়ুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।
(মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)
একজন মুমিনের জন্য তার রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি অপেক্ষা বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!
তাৎপর্যপূর্ণ এ দুআটি কেবল লাইলাতুল কদরের জন্যই নির্ধারিত নয়। পুরো রমযানেই, ইফতারীর সময়, সাহরীর সময় এবং অন্যান্য সময়েও পড়া যায়। এমনকি রমযান ছাড়াও এ দুআ পড়া যায়। নবীজীর শেখানো দুআ যত পড়া যায় ততই লাভ।
এই রাতে বেশি বেশি তাসবিহ-তায়লিল, জিকির-আজকার ও কুরআন অধ্যয়ন করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। পবিত্র এই রাতেই মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ণ হয়।
হাদিসে এসেছে-তোমরা কুরআন পড়; কারণ সে কিয়ামত দিবসে পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে”। [মুসলিম]
উল্লেখিত আমলের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর পাওয়ার তামান্না নিয়ে নিষ্ঠার সাথে শবে কদর অনুসন্ধান করলে আল্লাহ আমাদের বঞ্চিত করবেন না। ইনশাআল্লাহ।
