ক্বিয়ামাত আগামীকাল!
আজ যদি বুধবার হয় কাল হবে বৃহস্পতি। আমরা মানুষেরা এই tomorrow বা আগামীকাল নিয়ে খুব বেশি ভাবি। আগামীকাল নিয়ে স্বপ্ন বুনি। কাল নিয়েই স্বপ্ন সাজাই। কত কত প্লান-পরিকল্পনা আর ফিকির করে থাকি আগামীকালকে নিয়ে। অজস্র অভিপ্রায়, অসংখ্য অভিলাষ এই আগামীকল্যকে ঘিরে আমরা রচনা করে থাকি।
আগামীকাল নিয়ে এসব করাটা হয়ত দোষের নয়। হয়ত করাটা প্রয়োজন। তবে আমাদের এই আগামীকাল কিন্তু অনিশ্চিত। আজ রাত পোহালেও কালকের প্রভাত দেখার জন্য আমাদের চোখগুলো উন্মুক্ত হবে কি না—এর নিশ্চয়তা কিন্তু আদৌ নেই।
আর এ জন্যই মহান স্রষ্টা—তাঁর প্রেরিত মহাগ্রন্থে আরেক আগামীকালের তথ্য ও তত্ত্ব অথবা দর্শন তুলে ধরেছেন।যে আগামীকাল সুনিশ্চিত এবং অবধারিত। বস্তুত, সেই আগামীকল্যকে (আল-কুরআনঃ ৫৯/১৮) আপাত দূরে মনে হলেও আদপে কিন্তু অতি সন্নিকটে। খুব কাছে।যেন আসছে কালই।
সেই আগামীকল্য হচ্ছে ক্বিয়ামাত দিবস। ক্বিয়ামাত নিশ্চিত কিন্তু কখন সংঘটিত হবে তা অনিশ্চিত। ক্বিয়ামাত মানে এ বিশ্বের সবকিছুর সমাপ্তি ঘটিয়ে আখিরাতের প্রস্তুতি।তবে প্রতিটি প্রাণীরও একেকটি সমাপ্তি আছে।
তাই বলা যেতে পারে যে, প্রকৃত ক্বিয়ামাতের আগে,যে কোন মুহূর্তে সেই অঘটন ঘটে যেতে পারে যখন আমাদের চোখগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে মহাপ্রলয় দিবস দেখার আগেই স্ব-স্ব ছোট ছোট ক্বিয়ামাত দেখা শুরু করতে থাকবে।মৃত্যু নামের এই ছোট ক্বিয়ামাতও অনিশ্চিত।
তাই,আমাকে যেমন পার্থিব কারণে আগামীকালের জন্য জাগতিক প্লান-পরিকল্পনা সাজাতে হয়। যাতে জীবন সুন্দর হয়, সুচারু হয়। তেমনি আরেক আগামীকাল যা পরকাল এবং যেটি সুনিশ্চিত তার জন্য আরো উন্নত ফন্দি-ফিকির হয়ত করতে হবে। যাতে অনন্ত জীবন অত্যন্ত সুখকর যেন হয়।
মহান স্রষ্টা এজন্য যথার্থই হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, “প্রতিটি আত্মাই যেন ভেবে দেখে,সে আগামী কালের জন্য কি (পুণ্য কাজ) অগ্রিম পাঠিয়ে দিয়েছে।” (আল-হাশরঃ ১৮)
