মানব সভ্যতার বিপর্যয় নাকি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা?

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ 

অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান

সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি, দৈনিক শ্যামল সিলেট

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ালো।বিশ্ব নেতাদের বিরামহীন চেষ্টার পরও সংঘাত সংঘর্ষের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। ৯ মার্চ ওয়াল-স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুসারে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে ঘিরে রেখেছে।  (ম্যাসিভ এসকালেশন) যুদ্ধের ব্যাপকতা বৃদ্ধির আশংকা জোরালো হয়ে উঠছে। যুদ্ধ বিরতির জন্য উভয় পক্ষের নিস্ফল বৈঠক যুদ্ধের ব্যাপকতা ও সম্ভাবনা বৃদ্ধি করছে। ইতিমধ্যে এক মিলিয়ন ইউক্রেনীয় ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক বিপর্যয় রোধে রাশিয়া ইউক্রেন এর অফিসিয়ালি বৈঠক সত্ত্বেও সহসা সবকিছু স্তিমিত হয়ে যাবে এটাও আশা করা যাচ্ছে না।


( IMF) ইন্টারন্যাশনাল মনিটরিং ফান্ডের মতে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার আক্রমণ এবং এর ফলে মস্কোর উপর আরোপিত পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা গুলো বিশ্ব  অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
ক্রমাগত সংঘাত ইতিমধ্যেই পণ্যের দামকে চালিত করছে। সরবরাহ শৃংঙ্খলে বাধার কারণে অর্থনৈতিক পরিণতিগুলো ইতিমধ্যেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।IMF এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা (Cristiana geogieva) রোববার সর্তক করে বলেন ‘মূল্যের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলবে,  বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোর উপর, যাদের জন্য খাদ্যে এবং জ্বালানি ব্যয়ের একটি উচ্চ অনুপাত। 


তিনি বিশ্বকে সর্তক করে বলেন, যদি সংঘর্ষ বাড়তে থাকে তাহলে অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বিধ্বংসী হবে। রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞাগুলো বিশ্ব অর্থনীতি এবং আর্থিক বাজারগুলোতেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভাবে ছড়িয়ে পড়বে।


রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের মাঝে জ্বালানী তেলের মূল্য বহু বছরের উচ্চতায় টেনে নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। মৌলিক জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির অস্থায়ী প্রবৃদ্ধিকে বাধা দিচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত আকাশ ছোঁয়ার মাঝেই- বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক রাশিয়াকে আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং এটি চলতে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক ধ্বসের সৃষ্টি হবে।আইএইচএস (IHS) মার্কেটের ভাইস চেয়ারম্যান প্রখ্যাত লেখক ও জ্বালানী বাজার ইতিহাসবিদ ড্যানিয়েল ইয়ার্গিনের মতে, বিশ্ব ১৯৭০ সালে প্রতিদ্বন্দ্বি শক্তি সংকটের দ্বারপ্রান্তে থাকতে পারে। এটি একটি লজিস্টিক সংকট। এটি একটি অর্থ প্রদানের সংকট এবং এটি ৭০ দশকের স্কেলে হতে পারে।


রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত যদি ইউরোপে ছড়িয়ে যায়, তাহলে তথ্য-উপাত্ত কিংবা বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিসংখ্যানগত ব্যাখ্যা অথবা অকল্পনীয় সংকট সম্পর্কে কেউ কিছু ধারণা করতে পারবে না। এ ধরণের সংঘাত যদি ছড়িয়ে যায়, তাহলে এর বিস্তৃতি বা সীমারেখা টানা যায় না। সংঘাত থামানোর জন্য বিশ্ব নেতাদের ভূমিকা ও কার্যকরী পদক্ষেপ এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল পদক্ষেপ ও হিসেবের হেরফের পুরো মানব সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। এই দ্বন্দ্বের অবসান না হলে নিকট ভবিষ্যতে এক নতুন ওয়াল্ড ওর্ডার (নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা) তৈরি হবে এটি নিশ্চিত।

 

 

অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি, দৈনিক শ্যামল সিলেট