খলনায়কও তিনি, নায়কও তিনি!
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই গোল করার পাশাপাশি নিজেদের জালেও বল পাঠিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে বিরল রেকর্ড গড়েছেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সার্জিও গিরাসি।
ফুটবলে গোল করা ফরোয়ার্ডের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু একই ম্যাচে দুইবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানোর পর নিজেদের জালেও বল পাঠানো—এমন কীর্তি চ্যাম্পিয়নস লিগে আগে কেউ করতে পারেননি। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ৩-২ গোলের জয়ে দুই গোল করার পাশাপাশি একটি আত্মঘাতী গোল করে সেই বিরল রেকর্ড গড়েছেন সার্জিও গিরাসি।
১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে সংগৃহীত সোফাস্কোরের চ্যাম্পিয়নস লিগের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, এতদিন কোনো খেলোয়াড় একই ম্যাচে অন্তত দুই গোল ও একটি আত্মঘাতী গোল করেননি। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতার তিন দশকের বেশি সময়ের ইতিহাসে হাজারো ম্যাচ ও খেলোয়াড়ের মধ্যেও গিরাসিই প্রথম এই অদ্ভুত রেকর্ডের মালিক হলেন।
তবে রেকর্ডের বাইরেও ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে গিরাসির পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। ছয়টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রেখেছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশিত গোলের পরিমাণ ছিল ২.০৯। সতীর্থদের জন্য দুটি সুযোগও তৈরি করেন এই ফরোয়ার্ড। আকাশদ্বন্দ্বে পাঁচবারের মধ্যে চারবার জিতে ডর্টমুন্ডের আক্রমণে শারীরিক উপস্থিতিও জানান দেন তিনি।
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে গিরাসির এমন পারফরম্যান্স অবশ্য নতুন নয়। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে একই দলের বিপক্ষে দুই গোল করেছিলেন তিনি। ডর্টমুন্ড সেবার ৪-০ গোলে জিতেছিল, আর দুটি গোলই এসেছিল গিরাসির পা থেকে। এবারও স্প্যানিশ দলটির বিপক্ষে জোড়া গোল করে ভিয়ারিয়ালকে যেন নিজের পছন্দের প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এই কীর্তি প্রথম হলেও ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ ও উয়েফার বড় তিন ক্লাব প্রতিযোগিতায় একই ধরনের ঘটনা আগে ঘটেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে দুই গোলের পাশাপাশি আত্মঘাতী গোল করেছিলেন হুগো দুরো। ২০২১ সালে লেস্টার সিটির হয়ে বার্নলির বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েছিলেন জেমি ভার্ডি। ২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে দুই গোল করার পর নিজেদের জালেও একবার বল পাঠিয়েছিলেন মার্টিন হিন্টেরেগার।
আরও বিস্ময়কর কীর্তি আছে ট্যামি আব্রাহাম ও রবার্তো সোলদাদোর। ২০১৯ সালে উলভসের বিপক্ষে চেলসির হয়ে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একটি আত্মঘাতী গোল করেছিলেন আব্রাহাম। ২০১১ সালে রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে তিন গোলের সঙ্গে একটি আত্মঘাতী গোল করেছিলেন সোলদাদো।
তবে ডর্টমুন্ডের কাছে এসব রেকর্ডের চেয়ে গিরাসির দুই গোলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩-২৪ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩০ ম্যাচে ৩০ গোল করেছিলেন তিনি। পরের মৌসুমে ৫০ ম্যাচে করেন আরও ৩৮ গোল। টানা দুই মৌসুমের অসাধারণ পারফরম্যান্স তাঁকে ইউরোপের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলদাতায় পরিণত করেছে এবং ডর্টমুন্ডের আক্রমণের মূল ভরসা বানিয়েছে।
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্সেও সেই গুণের ছাপ দেখা গেছে। ছয়টি শট ও ২.০৯ প্রত্যাশিত গোল দেখাচ্ছে, নিয়মিত বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছেছেন তিনি। চারটি আকাশদ্বন্দ্বে জয় এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাসও প্রমাণ করে, গোল করার বাইরেও আক্রমণে তাঁর অবদান রয়েছে। ২০২৬-২৭ মৌসুমজুড়ে এমন গিরাসিকেই পাওয়ার আশা করবে ডর্টমুন্ড।

