টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে ৬৮৫ অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দীর্ঘ তদন্তের পর ৬৮৫টি টিকিট অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। ইউনাইটেডের দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে সুসংগঠিত টিকিট কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়েছে।
তবে ক্লাবের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। গত গ্রীষ্মে শুরু হওয়া অভিযানে অনেক নির্দোষ সমর্থকও শাস্তির মুখে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিভিন্ন সমর্থকগোষ্ঠী।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রোববারের ডার্বির আগে সমর্থকগোষ্ঠী দ্য ১৯৫৮ মৌসুমী টিকিট বাতিলের বিরুদ্ধে ভক্তদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সমর্থকদের ভাষ্য, ‘এ ব্যাপারটিতে সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে।’
এই সপ্তাহে সিটির বিপক্ষে ম্যাচের আগে তদন্তের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড। ক্লাবটি জানিয়েছে, মোট ৬৮৫টি অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪৬৪ জন সমর্থককে শাস্তি অথবা চূড়ান্ত সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে টিকিটিং সিস্টেমের গুরুতর অপব্যবহার করায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে শত শত অ্যাকাউন্ট থেকে টিকিট নিয়ন্ত্রণ, বিক্রি ও বিতরণকারী সুসংগঠিত টিকিটিং চক্রের কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব কর্মকাণ্ড প্রকৃত সমর্থকদের জন্য টিকিটের ন্যায্য প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এর কোন স্থান নেই।’
ইউনাইটেড আরও জানিয়েছে, তাদের এখনকার লক্ষ্য বাতিল হওয়া টিকিটগুলো প্রকৃত সমর্থকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের বর্তমান লক্ষ্য হল- টিকিটগুলো সমর্থকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারা নিশ্চিত করা। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে মৌসুমী টিকিটগুলো খালি হবে, তা মৌসুমী টিকিটের অপেক্ষায় থাকা সমর্থকদের জন্য বিবেচনা করা হবে।’
তদন্তে ইউনাইটেড মোট ১ হাজার ৬১৭টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে, যেগুলোতে ‘অস্বাভাবিক কার্যক্রম’ পাওয়া যাওয়ায় আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়েছিল।
ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমী টিকিট হারানো সমর্থকদের মধ্যে ১১৩ জন অতিরিক্ত তথ্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের কোনো জবাব দেননি। আরও ৭৩ জন আপিল করেননি। আর ৪৯৯ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে স্বাধীন আপিল প্যানেল।
ইউনাইটেডের দাবি, এই কঠোর পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য টিকিটের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করে প্রকৃত সমর্থকদের জন্য টিকিট পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।

