মেসি কাঁদলেন, কাঁদালেন? যা বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরপরই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হয় স্পেনের শিরোপা উৎসব। সেই উল্লাসের বিপরীতে ক্যামেরা গিয়ে থামে লিওনেল মেসির মুখে। ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। শেষ বাঁশি বাজার পর থেকেই মেসিকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। রানার্সআপের পদক গ্রহণ এবং স্পেনের ট্রফি উল্লাসের সময়ও তাঁকে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে।
ম্যাচ শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, ‘আমি কষ্ট পেয়েছি। তবে আমরা হৃদয় উজাড় করে খেলেছি।’ কিন্তু কেন তিনি এতটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে আলাদা করে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
তাঁর এই অশ্রুর কারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকেরা নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।
মহাকাব্যের এক বিষাদময় সমাপ্তি
যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফ মেসির কান্নাকে দেখেছে একটি দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল আর্জেন্টিনার সামনে। অতিরিক্ত সময়ে হজম করা একমাত্র গোল সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়। সংবাদমাধ্যমটির মতে, এতটা কাছে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত সমাপ্তি না পাওয়ার আক্ষেপই মেসির আবেগকে আরও গভীর করেছে।
হয়তো শেষ বিশ্বকাপ
ইএসপিএনসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে গুরুত্ব পেয়েছে মেসির বয়স। ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপই শেষ আসর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপা ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপও তাঁর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
হাতছাড়া বিরল কীর্তি
এবিসি নিউজের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আরেকটি দিক। ২০২২ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ইতিহাস গড়ার সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়াকেও মেসির অশ্রুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে সংবাদমাধ্যমটি।
ম্যাচের চিত্রও ছিল হতাশার
পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার কঠিন সন্ধ্যার গল্পই বলছে। পুরো ১২০ মিনিটে দলটি নিতে পেরেছিল মাত্র তিনটি শট, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। বিপরীতে স্পেন নেয় ২০টি শট এবং অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে। এমন একপেশে পরিসংখ্যানও ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার হতাশার মাত্রা স্পষ্ট করে।
১২০ মিনিটের লড়াইয়ের পর আবেগের বিস্ফোরণ
নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে শিরোপা হারায় আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের ফাইনালে এতটা কাছে গিয়েও ট্রফি ধরে রাখতে না পারার হতাশা, পুরো ম্যাচজুড়ে সৃষ্ট মানসিক চাপ এবং শেষ মুহূর্তের পরাজয়—সব মিলিয়েই মেসির আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
দেশের জার্সির প্রতি ভালোবাসা
আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গর্ব বলে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন মেসি। কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ ও সাম্প্রতিক সাফল্যের পর আরও একটি বিশ্ব শিরোপার স্বপ্ন ছিল তাঁরও। ফাইনালের মঞ্চে সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর অধিনায়কের আবেগ প্রকাশ অনেকের কাছেই স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছে।
মেসি কেন কেঁদেছিলেন, তার নির্দিষ্ট উত্তর একমাত্র তাঁর কাছেই আছে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বারবার উঠে এসেছে কয়েকটি বিষয়- সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ, ১২০ মিনিটের কঠিন লড়াই এবং দেশের হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ জিততে না পারার আক্ষেপ। সব মিলিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই অশ্রু হয়তো ফুটবল ইতিহাসে একজন কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবেই থেকে যাবে।
