লাল কার্ড দেখার লজ্জার বিশ্বরেকর্ড আর্জেন্টিনার
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এঞ্জো ফার্নান্দেজ। এই বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে তিনি নাম লিখিয়েছেন বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসের এক কুখ্যাত তালিকায়। এঞ্জোর এই লাল কার্ড আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জার বিশ্বরেকর্ড- বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা দল আর্জেন্টিনা।
ফুটবল ইতিহাসের মহোৎসবের এই চূড়ান্ত মঞ্চে এর আগে যাঁরা এমন লজ্জার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এবং লাল কার্ডের খড়্গ মাথায় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন:
১৯৯০ বিশ্বকাপ ফাইনাল: পেদ্রো মনজন ও গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা)
বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম লাল কার্ড দেখার রেকর্ডটি আর্জেন্টিনারই। ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অস্কার রুগোরির পরিবর্তে মাঠে নেমেছিলেন পেদ্রো মনজন। কিন্তু মাঠে নামার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় জার্মানির স্ট্রাইকার য়ুর্গেন ক্লিন্সমানকে একটি হাই-ট্যাকল করায় রেফারি তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। মনজন যখন ড্রেসিংরুমে গা শুকাচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর সতীর্থ গুস্তাভো দেজোত্তি জার্মানির য়ুর্গেন কোহলারকে ধাক্কা দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়েন, যা আর্জেন্টিনার জন্য এক ম্যাচেই জোড়া লাল কার্ডের বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনাল: মার্সেল দেশাই (ফ্রান্স)
ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের আতিশয্যে ফরাসি ডিফেন্ডার মার্সেল দেশাইয়ের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনাটি অনেকেই ভুলে যান। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে ব্রাজিলের কাফুকে ফাউল করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় রেফারি তাঁকে প্রথম হলুদ কার্ড দেখান। পরবর্তীতে একই খেলোয়াড়কে আবার ফাউল করায় দ্বিতীয় বুকিং নিয়ে ২০ মিনিট বাকি থাকতেই ফ্রান্সকে ১০ জনের দলে পরিণত করে মাঠ ছাড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে ডোপ টেস্টের রুমে বন্দি থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেশাই বলেছিলেন, “আমি প্রচণ্ড ভয়ে ও মেন্টাল স্ট্রেসে ছিলাম যে আমার ভুলের জন্য দেশ বিশ্বকাপ হারলে মানুষ আমার বাড়ি ভাঙচুর করবে!”
২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল: জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং নাটকীয় লাল কার্ড এটি। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফ্রান্সকে ট্রফি জেতানোর মিশনে নেমেছিলেন জিনেদিন জিদান। ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, তখন ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জি জিদানের বোনকে নিয়ে একটি কুৎসিত মন্তব্য করেন। মেজাজ হারিয়ে জিদান ইতালিয়ান ডিফেন্ডারের বুকে মাথা দিয়ে সজোরে ঢুস (হেডবাট) মারেন। মূল রেফারি বা লাইন্সম্যান ঘটনাটি না দেখলেও চতুর্থ অফিশিয়ালের ইশারায় রেফারি হোরাসিও এলিজোন্দো জিদানকে লাল কার্ড দেখান। ট্রফির পাশ দিয়ে জিদানের হেঁটে টানেলে চলে যাওয়ার দৃশ্যটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত।
২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনাল: জন হেইটিংগা (নেদারল্যান্ডস)
২০১০ সালের জোহানেসবার্গের ফাইনালটি ছিল প্রচণ্ড শারীরিক শক্তি ও ফাউলের ম্যাচ। ডাচ খেলোয়াড়রা স্পেনের আক্রমণভাগকে স্তব্ধ করতে শারীরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নিয়েছিল। ম্যাচ রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব সেই ম্যাচে রেকর্ড ১৪টি হলুদ কার্ড দেখান। ডাচ ডিফেন্ডার জন হেইটিংগা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। মজার ব্যাপার হলো, হেইটিংগা যাকে ফাউল করে মাঠ ছেড়েছিলেন, সেই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাই ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের জয়সূচক ঐতিহাসিক গোলটি করে ডাচদের হারিয়েছিলেন।
২০২৬ ফাইনালে এঞ্জো
২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে একটি বেপরোয়া ও বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফার্নান্দেস। এর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের পঞ্চম খেলোয়াড় এবং আর্জেন্টিনার তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালের এই ‘হাল অব শেম’-এর তালিকায় যুক্ত হলেন।
