বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ফুটবল রোমাঞ্চের প্রদর্শনী দেখলো বিশ্ব। পিছিয়ে পড়েও জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রবেশ করেছে ইংল্যান্ড। চরম গ্রিটি ও কঠিন লড়াইয়ের পর অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় নরওয়ের রূপকথা থামিয়ে ইতিহাসের মাত্র চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে পা রাখলো থ্রি লায়ন্সরা। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চের সেমিফাইনালের টিকিট কাটলো ইংলিশরা, যেখানে আটলান্টায় তাদের জন্য অপেক্ষা করছে পরবর্তী মহারণ।
শুরু থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংল্যান্ডের হাতে। বেশ কিছু আক্রমণে নরওয়ের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখে ইংলিশ ফরোয়ার্ডরা। তবে স্রোতের বিপরীতে ৩৬ মিনিটে গোল খেয়ে বসে তারা। দারুণ এক শটে দূরের পোস্ট ঘেঁসে বল জালে জড়ান আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ।
এরপর ম্যাচে সমতা আনতে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে সমতা এনে দেন জুড বেলিংহাম। এতে ১-১ গোলের সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৭ মিনিটে আবারও গোলের দেখা পায় নরওয়ে। তবে হলান্ডের ফাউলের কারণে মনিটরে দেখে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে অল্পের জন্য রক্ষা পায় ইংল্যান্ড। নরওয়ে একটি কর্নার থেকে বল ক্লিয়ার করতে এগিয়ে এসেছিলেন জর্ডান পিকফোর্ড। কিন্তু তার ক্লিয়ার করা বল আবারও নরওয়ের খেলোয়াড়দের কাছেই ফিরে যায়। সেখান থেকে নেওয়া হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত আর কোনো না হলে ১–১ সমতায় শেষ হয় ইংল্যান্ড–নরওয়ের ৯০ মিনিটের খেলা।
৯৩ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বেলিংহাম। মরগান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিলান্ডের হাত ফসকে যায়। এরপর বল পেয়ে তা জালে জড়ান এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।
এগিয়ে যাওয়ার পর পরই পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। তবে মনিটরে দেখে তা বাতিল করে দেন রেফারি। দলকে লিড নিয়ে দিয়ে ম্যাচের ১১১ মিনিটে মাঠ ছাড়েন বেলিংহাম। তার বদলি হিসেবে নামেন ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা।

