টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্স
একদিকে ইয়াসিন বুনোর অবিশ্বাস্য সব সেভ, অন্যদিকে ফ্রান্সের লাগাতার আক্রমণ। দীর্ঘক্ষণ গোলের দেখা না মিললেও শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের জোড়া আঘাতে মরক্কোর প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয় ফরাসিরা।
বোস্টনে শুক্রবার (১০ জুলাই)কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ গোলের জয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধ হতাশায় কেটেছে ফরাসিদের। পঞ্চম মিনিটেই এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট ঠেকান বুনো। পরে দাওত উপামেকানো ও জুল কুন্দের হেডও রুখে দেন তিনি। ২৫তম মিনিটে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স, কিন্তু ভিএআর পরীক্ষার পর নেয়া এমবাপ্পের দুর্বল শট ২৮তম মিনিটে সহজেই ঠেকিয়ে দেন বুনো। বিরতির আগে লুকা দিনিয়ের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মরক্কো কিছুটা আক্রমণাত্মক হলেও গোলের মুখ খুলে ফ্রান্সই। ৬০তম মিনিটে বক্সের বাঁ দিক থেকে এমবাপ্পের দারুণ বাঁকানো শট জালে জড়ালে এগিয়ে যায় ফরাসিরা। ভিএআর পরীক্ষা শেষে গোলটি বহাল থাকে।
এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে এগিয়ে এসে বক্সের বাইরে থেকে নেয়া তার নিচু শট বুনোর হাত ছুঁয়ে জালে ঢুকে পড়ে। দ্রুত দুই গোল খেয়ে ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি মরক্কো। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। তবে তার পায়ের ছোট কতটা গুরুতর সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শেষদিকে আশরাফ হাকিমির ফ্রি-কিক ও এল আইনাউইয়ের হেডে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও গোল পাননি তারা। উল্টো ফ্রান্স আরও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে।
এই জয়ে ফ্রান্স টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল। ২০১৮ সালে শিরোপা জয়ের পর ২০২২-এ রানার্সআপ হওয়া ফরাসিরা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন বা বেলজিয়াম।
এদিকে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে গেছেন এমবাপ্পে। পেনাল্টি মিস করলেও পরে গোল করে তিনি লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকার সুবাদে। দুজনেরই চলমান বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা ৮টি। আর বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির চেয়ে মাত্র ১ গোল পিছিয়ে রইলেন তিনি। আর্জেন্টাইন তারকার গোল ৩১ ম্যাচে ২১টি। ২০ ম্যাচে ২০টি করেছেন এমবাপ্পে।

