হাফেজ হুমাইদীর মধুর তেলাওয়াতে মুখরিত মসজিদ
কুরআনের সুরে সুরে মুখরিত মসজিদ। মধুর সুরে মুগ্ধ মুসল্লিরা। ইমাম হাফেজ মঞ্জুরুল বারী হুমায়দী। ২৩ বছরের এই হাফেজ আট বছর ধরে পবিত্র তারবিহের নামাজের ইমামতি করছেন। প্রতিবারের মত এবারও ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের হস্তিদুর পূর্ব জামে মসজিদে খতম তারাবিহের নামাজ পড়াচ্ছেন।
রোজায় কুরআনের সুর বাজে মুমিনের ঘরে ঘরে। তারাবির নামাযে পঠিত হয় কুরআন। পহেলা রোযা থেকে একাধারে ২৭ রোযা পর্যন্ত সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেযে কুরআনদের কণ্ঠে ধরণীত খোদার বানী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। এসকল হাফেযে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওযার আশায় থাকেন।
মাহে রমজানে তারাবির নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করা হাফেজে কুরআনদের নিয়ে নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেটের বিশেষ আয়োজন ‘আলোর পরশমণি’। আজ আমরা হাফেজ মঞ্জুরুল বারী হুমায়দী’র কথা।
হাফেজ মঞ্জুরুল বারী হুমায়দী সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের খালপার গ্রামের এবং ফতেহপুর কামিল মাদরাসার সিনিয়র মৌলভী (শিক্ষক) মাওলানা মোঃ খলীলুর রহমানের বড় ছেলে। তিনি ষোল বছর বয়সে ২০১৮ সালে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন সিলেটের তেমুখী জামেয়া হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা:) হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে। এছাড়া হুমায়দী আরবী বিশ্ববিদ্যায়ের অধীনে জামেয়া রাহমানীয়া তায়ীদুল ইসলাম ফতেহপুর কামিল মাদরাসায় আল কুরআন এন্ড ইসলামীক স্টাডিজ নিয়ে ফাযিল অনার্সের ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত। তারাবি নামাজের ইমামতির মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ হাফেজ। যার কারণে হস্তিদুর পূর্ব জামে মসজিদে এবারসহ তৃতীয়বার তারবিহের নামাজের ইমামতি করছেন।
পবিত্র কুরআনুল কারীম মানবতার মুক্তির সনদ। অন্ধকারে পথহারা পথিকের আলোকবর্তিকা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, নিশ্চয়ই এই কুরআন সরল—সঠিক পথ প্রদর্শন করে। (সূরা বনী ইসরাঈল: ৯)
রমজান মাসের সাথে রয়েছে কুরআনের গভীর সম্পর্ক। এ মাসে কুরআন তেলাওয়াতকারী ও শ্রবনকারী পুণ্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কুরআনের ধারক—বাহক হাফেজগণ আল্লাহর পরিজন ও তাঁর বিশেষ বান্দা। (সুনানে ইবনে মাজাহ)। রমজানের প্রতিটি রাতে মসজিদে মসজিদে হাফেজে কুরআনদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় মহান আল্লাহর ঐশী বাণী। শীতল হয় মুমিন হৃদয়। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মুমিনের হৃদয় প্রশান্তি লাভের পাশাপাশি সতেজ হয়ে উঠে মুমিনের ঈমান। আল্লাহ পাক বলেন, মুমিনতো তারাই, আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করলে তাদের ইমান মজবুদ হয়।
হাফেজ মঞ্জুরুল বারী হুমায়দী বলেন, কুরআনের খেদমত করার তাওফিক দেওয়ায় মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আমার পিতা—মাতা এবং উস্তাদগণের দোয়া ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের এই আমি। আমৃত্যু কুরআনের সাথে সম্পর্ক রেখে খেদমত করে যেতে চাই।
