বিএনপির ৩ প্রার্থীসহ চার জনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ১৯টি আসনের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ছাড়াও সমমনা আরো একাধিক দলের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার লাইসেন্স পেয়ে গেছেন। ভোটারদের নিজেদের অনুকুলে আনতে দিনরাত নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচনী উৎসব ও আমেজের মধ্যে শঙ্কাও কাজ করছে প্রার্থীদের মাঝে। কেননা নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার একদিনের মাথায় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। যা দেশের সকল প্রার্থীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় সকল প্রার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের কে ব্যাক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করে। এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন প্রার্থী অস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন করেছেন সেই তথ্য পাওয়া না গেলেও সিলেটের ১৯ আসনে প্রার্থীদের হলফনামা পর্যবেক্ষণ করে ৪ জন প্রার্থীর নিকট আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩জন প্রার্থী বিএনপির এবং ১জন প্রার্থী রয়েছেন স্বতন্ত্র।
ব্যাক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এমন প্রার্থী হলেন সিলেট-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফয়ছল আহমেদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩আসনের বিএনপি প্রার্থী এম নাসের রহমান, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন মিলন এবং সুনামগঞ্জ-৩ স্বতন্ত্রপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন।
সিলেট জেলা থেকে বিএনপির ৬ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির ৬জন সহ ৩জন অন্যান্য দলের আরো একাধিক প্রার্থী। তন্মধ্যে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফয়ছল আহমেদ চৌধুরী নির্বাচন কমিশনের নিকট দাখিলকৃত হলফ নামায় আগুনেয়াস্ত্রের তালিকা তিনি তার কাছে রক্ষিত ১টি পিস্তলের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে পিস্তলের কোন মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে নির্বাচন করা প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার কাছে রক্ষিত একটি আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি ওই আগ্নেয়াস্ত্রটির মূল্য হিসেবে ৫০হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন।
অপরদিকে হবিগঞ্জের কোন প্রার্থীর হলফনামায় আগ্নেয়াস্ত্র না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ২টি আসনের ২ জন প্রার্থীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন মিলন নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় তার কাছে ১টি পিস্তল থাকার তথ্য উল্লেখ করেছেন। আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য হিসেবে তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও সুনামগঞ্জ-৩আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হুসেন অস্ত্রের সংখ্যা উল্লেখ না করলেও আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য দেখিয়েছেন ১লাখ টাকা।
