রসময়কে উড়িয়ে দিয়ে সৈয়দ হাতিম আলী স্কুলের বড় জয়
পর্দা উঠল জিএনসি স্কুল ক্রিকেটের
সিলেটের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেট উন্নয়ন ও আগামীর তারকা খেলোয়াড় অন্বেষণের লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘জিএনসি স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬’। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে এমসি কলেজ মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে রসময় মেমোরিয়াল হাই স্কুলকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বর্তমান সিলেট বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়।
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় রসময় মেমোরিয়াল হাই স্কুল। নির্ধারিত ৩৫ ওভারের ম্যাচে সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও তোপে পড়ে মাত্র ২৫ ওভারে ১৪১ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। দলের পক্ষে ফরহাদ ৬৬ বলে ৩টি ছক্কার সাহায্যে লড়াকু ৫৬ রান করেন। তবে প্রতিপক্ষ বোলার মারুফের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি বাকি ব্যাটাররা। মারুফ মাত্র ৩ ওভার বল করে ১টি মেডেনসহ ১২ রান দিয়ে একাই ৫ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া দীব্য ৬ ওভারে ২ মেডেনসহ ২২ রানে নেন ৩টি উইকেট।
১৪২ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আগ্রাসী মেজাজে শুরু করে সৈয়দ হাতিম আলী স্কুল। মাত্র ১৩.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা। দলের পক্ষে ফারহান মাত্র ২২ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। জামি ২৬ বলে করেন ৩৩ রান। ফারহান ও জামি দুজনেই অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের জন্য সৈয়দ হাতিম আলী স্কুলের মারুফ ‘ম্যাচ সেরা’ নির্বাচিত হন। ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন আবুল কালাম শাহিন ও আবিদ হাসান রাজু এবং স্কোরারের দায়িত্বে ছিলেন তাসলিম খান।
এর আগে সকালে ১৬টি স্কুলের অংশগ্রহণে নকআউট পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক রাহাত শামস। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট লীগের সহ-সভাপতি সাদাত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিবি পরিচালক রাহাত শামস বলেন, ভবিষ্যতের জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি করতে হলে স্কুল পর্যায়ের ক্রিকেটের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত এমন কাঠামোবদ্ধ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা গেলে প্রকৃত প্রতিভা উঠে আসবে। জিএনসি-র এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে।
জিএনসি-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সৈয়দ রাফি বলেন, ১৯৮০-র দশকের একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হিসেবে জিএনসি (গ্রে নিকলস ক্রিকেটার্স) দীর্ঘকাল ধরে সিলেটের ক্রিকেটে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ও শারীরিক সক্ষমতা বিকাশে এই প্ল্যাটফর্ম সহায়ক হবে।
সাবেক নারী ক্রিকেটার আলেয়া ফেরদৌসী তুলি তৃণমূল থেকে নারী ক্রিকেটার তুলে আনার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জিএনসি-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জহিরুল হক হিরু, আলী ওয়াসিকুজ্জামান অনি, আব্দুল ওয়াদুদ সুইট এবং সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর দেওয়ান তায়েফ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব নুর হোসেন।।
স্কুল ক্রিকেটের এই মহোৎসব ঘিরে এমসি কলেজ মাঠে খেলোয়াড়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
