কুরআনের খেদমতে সর্বদা নিয়োজিত থাকতে চান হাফেজ নাজিম
হাফেজ নাজিম মিয়া। সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নের নসিরপুর গ্রামের সানুর মিয়া ও জাহানারা বেগম দম্পতির তৃতীয় সন্তান। ২০১৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ মা বাবার স্বপ্ন ‘কুরআনের হাফিজ’ হওয়ার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে নসিরপুর (বর্তমানে নাসিয়ারপুর) জালালিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে কুরআনুল কারীমের হিফজ সম্পন্ন করেন তিনি।
পরে ২০২০ সালে ওসমানীনগর উপজেলার জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম উমরপুর বাজার টাইটেল মাদরাসায় ভর্তি হয়ে হিফজুল কুরআনের দাওরাহ সম্পন্ন করেন। কুরআনকে আরো বেশি আত্মস্ত করতে ২০২১ সালে ওসমানীনগরের আরেকটি প্রতিষ্ঠান গ্রামতলা হাফিজিয়া আবাসিক মাদরাসা থেকে পূণরায় দাওরাহ দেন। এসব মাদরাসার শিক্ষকদের সাহচর্যে এসে অল্পদিনেই কুরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠেন হাফেজ নাজিম মিয়া।
মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীম। মানবজাতীর চলার পথের গাইড লাইন। মুমিনদের আত্মার খোরাক। তেলাওয়াতে খুশি হয় মুমিনদের অন্তর। বাড়ে ঈমান। ঐশীগ্রন্থ। মহান আল্লাহর চিরন্তন বাণী। মিথ্যা ভুল ও সন্দেহের উর্ধ্বে এক মুজেজাপূর্ণ কিতাব। লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কিতাব।
হেরা গুহায় সূচনা যে কিতাবের। ‘ইকরা বিসমি’ তথা পড় তোমার রবের নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মর্মার্থের পাঁচখানা আয়াতের বাহক ফেরেশতা জিবরাইল। প্রিয় রাসুল সা. হলেন প্রাপক। কুরআন এক আলোর ফোয়ারা।
কুরআন মানব জাতির মুক্তির মানুষের পথ নির্দেশিকা। মুমিনের ইমানের চেতনা। মুত্তাকির জান্নাতের ঠিকানা। পথচলার সমাধান। কুরআনের মাস রমজান। এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়। তাইতো রমজান সম্মানিত। কুরআন ছোঁয়া লাগবে যে অন্তরে, সে অন্তর হবে নূরানী আলোয় আলোকিত। হবে সুরভিত। কুরআনের ছোঁয়ায় ঈমান হবে শাণিত। রোজায় কুরআনের সুর বাজে মুমিনের ঘরেঘরে।
তারাবির নামাজে পঠিত হয় কুরআন। প্রথম রমজান থেকে সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেজে কুরআনদের কণ্ঠে ধ্বনীত হয় রাব্বে কারীমের বাণী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। এসকল হাফেযে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওযার আশায় থাকেন।
মাহে রমজানে তারাবির নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করা হাফেজে কুরআনদের নিয়ে নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেটের বিশেষ আয়োজন ‘আলোর পরশমণি’। আজ আমরা হাফেজ নাজিম মিয়রে কথা পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি।
নাজিম মিয়া কুরআনের হাফেজ হতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবাণীতে এবং পরিবার ও মাদরাসার শিক্ষকদের শাসনমিশ্রিত আদরে তিনি মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীমের হিফজ সম্পন্ন করেন। ত্রিশ পারা কুরআন হিফজ করার পর থেকে প্রতিবছর রমজান মাসে তিনি তারাবি পড়িয়ে আসছেন। ২০২২ সালে নিজ গ্রামের মসজিদেই রমজান মাসে তারাবি পড়ানো শুরু করেন তিনি। এবারো একই মসজিদেই তারাবি পড়িয়েছেন হাফিজ নাজিম। তার কুরআন তিলাওয়াত শুনে এলাকাবাসী সহ দেশ বিদেশের মানুষ মুগ্ধ। আজীবন কুরআনের খেদমত করেই কাটাতে চান তিনি।
হাফিজ নাজিম কুরআন হিফজের পাশাপাশি আলেম হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ওসমানীনগর ইসলামিক একাডেমিতে অধ্যয়ন করছেন। কুরআন ও হাদিসের আলোকে নিজের জীবন গড়ে তুলে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভুমিকা রাখতে চান তিনি। হাফিজ হওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে নাজিম বলেন, মা বাবার স্বপ্ন ছিল আমি একদিন হাফিজ হয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাবো। অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকা স্বত্ত্বেও আমি তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। কুরআনকে বুকে ধারণ করে আমি বেঁচে থাকতে চাই। আমি সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি।
নিজের গ্রামের মসজিদে তারাবি পড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, রমজান মাসে তারাবি পড়ানো প্রত্যেক হাফিজের কাছে ভালোলাগার বিষয়। সেটি যদি হয় নিজের গ্রামে, নিজের পাড়াপড়শিকে নিয়ে, তাতে আনন্দের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। বিগত চারবছর ধরে আমার এলাকার মসজিদে তারাবি পড়াচ্ছি এটি খুবই উৎফুল্লের বিষয়। গ্রামের মানুষ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন, এজন্য তাদের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। আল্লাহ আমার এ খেদমতকে কবুল করুক এবং আগামীতে আরো বড় পরিসরে নিজেকে কুরআনের খেদমতে যেন নিয়োজিত রাখতে পারি সেজন্য সবার দোয়া চাচ্ছি।
