কুরআনের জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে চান হাফেজ ফখরুল
আলোর পঁচিশ বছর যাবত কুরআন নাজিলের মাসে খতমে তারাবিতে তেলাওয়াতের মাধ্যমে মানবজাতির মুক্তির সনদ ঐশীগ্রন্থ কুরআনুল কারীমের একনিষ্ঠ খেদমু করে যাচ্ছেন হাফেজ সৈয়দ ফখরুল ইসলাম।
তারাবির নামাজের ইমামতির সুবাধে মুসল্লিদের সাথে গড়ে উঠে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এক মধুর সম্পর্ক। যা রমজানের পরও অন্যত্র দেখা হলে মুসল্লি-ইমামের মধ্যে এক অপূর্ব সম্মিলন ঘটে যা ওই দুইজন ছাড়া অন্য কেউ অনুভব করা সম্ভব নয়।
হাফেজ সৈয়দ মোঃ ফখরুল ইসলাম সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার নূরপুর গ্রামের সৈয়দ আব্দুন নূর এর ঘরে ১৯৮৫ সালের ১১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।
মাত্র বারো বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে তিনি কাঈদুল উলামা, সদরে জমিয়ত আল্লামা শায়খ আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়া রহ. এর স্মৃতি বিজড়িত জামেয়া ইসলামিয়া আব্বাসিয়া কৌড়িয়া মাদরাসায় পবিত্র কুরআনের হিফজ শুরু করে ২০০১ সালে হিফজুল কুরআনের সবক শেষ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন।
মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীম। মানবজাতীর চলার পথের গাইড লাইন। মুমিনদের আত্মার খোরাক। তেলাওয়াতে খুশি হয় মুমিনদের অন্তর। বাড়ে ঈমান। ঐশীগ্রন্থ। মহান আল্লাহর চিরন্তন বাণী। মিথ্যা ভুল ও সন্দেহের উর্ধ্বে এক মুজেজাপূর্ণ কিতাব। লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কিতাব।
হেরা গুহায় সূচনা যে কিতাবের। ‘ইকরা বিসমি’ তথা পড় তোমার রবের নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মর্মার্থের পাঁচখানা আয়াতের বাহক ফেরেশতা জিবরাইল। প্রিয় রাসুল সা. হলেন প্রাপক। কুরআন এক আলোর ফোয়ারা।
কুরআন মানব জাতির মুক্তির মানুষের পথ নির্দেশিকা। মুমিনের ইমানের চেতনা। মুত্তাকির জান্নাতের ঠিকানা। পথচলার সমাধান। কুরআনের মাস রমজান। এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়। তাইতো রমজান সম্মানিত। কুরআন ছোঁয়া লাগবে যে অন্তরে, সে অন্তর হবে নূরানী আলোয় আলোকিত। হবে সুরভিত। কুরআনের ছোঁয়ায় ঈমান হবে শাণিত। রোজায় কুরআনের সুর বাজে মুমিনের ঘরেঘরে।
তারাবির নামাজে পঠিত হয় কুরআন। প্রথম রমজান থেকে সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেজে কুরআনদের কণ্ঠে ধ্বনীত হয় রাব্বে কারীমের বাণী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। এসকল হাফেযে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওযার আশায় থাকেন।
মাহে রমজানে তারাবির নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করা হাফেজে কুরআনদের নিয়ে নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেটের বিশেষ আয়োজন ‘আলোর পরশমণি’। আজ আমরা হাফেজ সৈয়দ ফখরুল ইসলাম এর কথা পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি।
হাফেজ সৈয়দ ফখরুল ইসলাম ২০০০ সাল থেকে তারাবির নামাজে ইমামতি শুরু করেন। ইমামতির শুরুটা ছিল তাঁর নিজ ইউনিয়নের কান্দিগ্রাম জামে মসজিদে ২০০২ সাল পর্যন্ত তারাবি পড়ান।
পরে ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল একাধারে ৫বছর পর্যন্ত নিজ ইউনিয়নের গোমরাগুল গ্রামের মসজিদে তিনি তারাবির নামাজে ইমামতি করেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পূণরায় কান্দিগ্রামে, ২০১২ সালে তাঁর নিজের এলাকা মিরগাঁও গ্রামের মসজিদে, ২০১৩ সালে পেছি খুরমা গ্রামে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের খুনিরচক গ্রামের মসজিদে তিনি তারাবির নামাজ পড়ান।
পরে ২০১৭ সালে একই ইউনিয়নের পরগনারবাজার জামে মসজিদে, ২০১৮ সালে পীরের বাজার ইউনাইটেড হাউজিং জামে মসজিদে খতমে তারাবির নামাজে ইমামতি করেন। এরপর ২০১৯ সাল থেকে এ যাবত প্রতি রমজানে হাফেজ ফখরুল ইসলাম নিজ ইউনিয়নেন মাধবপুর গ্রামে সালাতুত তারাবিতে ইমামতি করে আসছেন।
দীর্ঘ পঁচিশ বছর থেকে তারাবির নামাজ পড়ানো হাফেজ সৈয়দ ফখরুল ইসলাম নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, আমি প্রথমে আনন্দচিত্তে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমার মতো নগন্যকে কুরআনের হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য দান করেছেন।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা কুরআনকে কী পরিমাণ ভালোবাসেন, তা রমজানে মাস এলেই হৃদয় থেকে অনুধাবন করা যায়। আর হাফেজদের প্রতি তাদের মুহব্বতের কথা তো অবর্ণনীয়।
হাফেজ ফখরুল ইসলাম কুরআনের খেদমতের দ্বারাই নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে চান, এমনটা তাঁর মনের চাওয়া। এজন্য তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।
