কুরআনের খেদমতেই মুগ্ধ হাফেজ আব্দুল হাই
হাফেজ আব্দুল হাই আল-হাদী। যিনি একাধারে আলেম, শিক্ষক ও উপস্থাপকও। বিগত দুই দশক ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে সালাতুত তারাবিতে ইমামতি আসছেন। রাজধানী ঢাকা, সিলেট নগরী, জগন্নাথপুর উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি কুরআনের খেদমত করেছেন।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নারিকেল তলা গ্রামের আব্দুল মান্নান এর ছেলে তরুণ আলেম ও হাফিজ আব্দুল হাই আল-হাদীর অমায়িক ব্যবহারে বরাবরই মুগ্ধ হয়ে যান তার পেছনে থাকা মুক্তাদিরা। হৃদয়খোলা ভালবাসা প্রদর্শন করে থাকেন প্রিয় হাফেজের সম্মানে। তিনি আচার-ব্যবহারে যেমন নম্রভদ্র ঠিক তেমনিভাবে কুরআন তেলাওয়াতে রয়েছে রয়েছে কোমলীয়তা।
হিফজ শেষ করার পর সরফ জামাত থেকে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদরাসায় লেখাপড়া করে ২০১৬ সালে দস্তারে ফযিলত গ্রহণ করেন।
মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীম। মানবজাতীর চলার পথের গাইড লাইন। মুমিনদের আত্মার খোরাক। তেলাওয়াতে খুশি হয় মুমিনদের অন্তর। বাড়ে ঈমান। ঐশীগ্রন্থ। মহান আল্লাহর চিরন্তন বাণী। মিথ্যা ভুল ও সন্দেহের উর্ধ্বে এক মুজেজাপূর্ণ কিতাব। লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কিতাব। হেরা গুহায় সূচনা যে কিতাবের। ‘ইকরা বিসমি’ তথা পড় তোমার রবের নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মর্মার্থের পাঁচখানা আয়াতের বাহক ফেরেশতা জিবরাইল। প্রিয় রাসুল সা. ঠিকানা। কুরআন এক আলোর ফোয়ারা।
কুরআন মানব জাতির মুক্তির মানুষের পথ নির্দেশিকা। মুমিনের ইমানের চেতনা। মুত্তাকির জান্নাতের ঠিকানা। পথচলার সমাধান। কুরআনের মাস রমজান। এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়। তাইতো রমজান সম্মানিত। কুরআন ছোঁয়া লাগবে যে অন্তরে, সে অন্তর হবে নূরানী আলোয় আলোকিত। হবে সুরভিত। কুরআনের ছোঁয়ায় ঈমান হবে শাণিত। রোজায় কুরআনের সুর বাজে মুমিনের ঘরেঘরে।
তারাবির নামাজে পঠিত হয় কুরআন। প্রথম রমজান থেকে একাধারে ২৭ রোজা পর্যন্ত সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেযে কুরআনদের কণ্ঠে ধ্বনীত হয় খোদার বাণী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। এসকল হাফেযে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওযার আশায় থাকেন।
মাহে রমজানে তারাবির নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করা হাফেজে কুরআনদের নিয়ে নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেটের বিশেষ আয়োজন ‘আলোর পরশমণি’। আজ আমরা হাফেজ আব্দুল হাই আল হাদী’র কথা পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি।
হাফিজ আব্দুল হাই আল-হাদী আজ বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ব্রিটেনের মাটিতে কুরআনের খেদমত করছেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনের হযরত উমর রা. মসজিদে তারাবির নামাজে ইমামতি করছেন। ২০০৭ সালে তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার হিফজ জগতের ঐতহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠলি দারুল উলুম মাদরাসা থেকে কুরআনুল কারীমের হিফজ সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে একি উপজেলার দোস্তপুর নোয়াপাড়া মসজিদে পর্যায়ক্রমে আটবছর, অতঃপর নিজ গ্রামে চারবছর তারাবির নামাজ পড়ান।
পরবর্তীতে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে চারবছর, রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একবছর, জামেয়া দারুল উলুম সিলেটে এক বছর, মারকাযুল কোরআন সিলেটে দুইবছর তারাবির নামাজে ইমামতি করেছেন।
তারাবির নামাজে ইমামতির অনুভূতি জানতে চাইলে হাফেজ মাওলানা আব্দুল হাই আল হাদী বলেন, যেসব মসজিদে তারাবি পড়িয়েছি, সেসব মসজিদের মুসল্লীরা আমাকে খুব মহব্বত করেছেন। বিশেষ করে যুব সমাজের ভালবাসা ভুলার নয়।
অনেক দূর থেকেও মুসল্লিরা কষ্ট করে আসতেন। নামাজ শেষে মোসাফাহা করতেন। অনেকে নিজের বন্ধু ও ভাইয়ের চেয়ে বেশী ভালবাসতেন। তা এমন এক অনুভূতি যা একমাত্র অনুভব করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করা কষ্টসাধ্য। হাফেজ হাদী আরও বলেন, একাধিক মসজিদের মধ্যে বিশেষ করে আমার গ্রামের মসজিদে টানা চারবছর নামাজ পড়িয়েছি। সেসময়ের স্মৃতি এখনো মনে পড়ে।
কতো মুরব্বীয়ানে কেরাম আজ দুনিয়াতে নেই, যাদের ভালবাসা এখনো আমার হৃদয়ে দাগ কাটে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে জান্নাতবাসী করুন। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো জন্মদাতা পিতা,বড় ভাইসহ চাচারা ও অনেক আত্মীয়-স্বজনরা আমার পেছনে নামাজ পড়েছেন।
তিনি বলেন, আমি সবার কাছে দোয়া চাই আল্লাহ তায়ালা যতদিন বাঁচিয়ে রাখেন, ততোদিন যেনো কুরআনে কারীমের খেদমত করার তাওফীক দান করেন যাতে আমি বিশ্বময় কুরআনের পয়গাম পৌঁছে দিতে পারি।
