দ্বীনের প্রকৃত খাদিম হতে চান হাফেজ তাওহীদ
২২ বছরের টগবগে তরুণ হাফিজ মো. তাওহীদুর রহমান ২০২২ সাল থেকে খতমে তারাবির ইমামতি করে আসছেন। নববী কন্ঠে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মুসল্লিদের হৃত্মিক ভালবাসা অর্জন করেছেন। সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম মল্লিকপুর গ্রামের ক্বারী শহীদুর রহমানের বড় ছেলে হাফিজ মো. তাওহীদুর রহমান ২০০৩ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।
মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীম। মানবজাতীর চলার পথের গাইড লাইন। মুমিনদের আত্মার খোরাক। তেলাওয়াতে খুশি হয় মুমিনদের অন্তর। বাড়ে ঈমান। ঐশীগ্রন্থ। মহান আল্লাহর চিরন্তন বাণী। মিথ্যা ভুল ও সন্দেহের উর্ধ্বে এক মুজেজাপূর্ণ কিতাব। লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কিতাব। হেরা গুহায় সূচনা এ কুরআন। ইকরা বিসমি দিয়ে সূচনা। বাহক ফেরেশতা জিবরাইল। প্রিয় রাসুল ঠিকানা। কুরআন এক আলোর ফোয়ারা। হেরার জ্যোতি। কুরআন মানব জাতির মুক্তির মানুষের পথ নির্দেশিকা। মুমিনের ইমানের চেতনা। মুত্তাকির জান্নাতের ঠিকানা। পথচলার সমাধান।
রোজায় কুরআনের সুর বাঁজে মুমিনের ঘরে ঘরে। তারাবির নামাযে পঠিত হয় কুরআন। পহেলা রোযা থেকে একাধারে ২৭ রোযা পর্যন্ত সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেজে কুরআনদের কণ্ঠে ধ্বণীত হয় খোদার বানী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। এসকল হাফেজে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওয়ার আশায় থাকেন।
কুরআনের মাস রমজান। এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়। তাইতো রমজান সম্মানিত। কুরআন ছোঁয়া লাগবে যে অন্তরে, সে অন্তর হবে উদ্ভাসিত। হবে সুবাসিত সুরভিত। কুরআনের ছোঁয়ায় ইমান হবে শাণিত। হবে তেজদ্বীপ্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা ইমানদার তারা যখন আল্লাহর নাম নেয়, নরম হয় তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে কুরআন পাঠকরা হয়, তাদের ঈমান সজিব হয়ে উঠে। তারা মাওলা প্রেমে আত্মনিবেদিত হয়। সুরা আনফাল: ২
রমজানজুড়ে নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেটের বিশেষ আয়োজন ‘আলোর পরশমণি’তে আজ স্থান পেয়েছে হাফেজ মো. তাওহীদুর রহমান এর অনুভূতির কথা।
হাফিজ মো. তাওহীদুর রহমান ২০১৫ সালে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীমের সবক শুরু করেন। এবং ২০২০ সালে বোর্ডের তাহফিযুল কুরআনুল কারীমের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতীত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরপর থেকে তিনি নিয়মতি প্রতিবছর রমজানে সালাতুত তারাবির নামাজে ইমামতি করে আসছেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি মল্লিকপুর-পশ্চিম মল্লিকপুর গাউছিয়া জামে মসজিদে নিয়মিত তারাবীহ পড়াচ্ছেন।
তারাবির নামাজের ইমামতির অনুভূতি জানতে চাইলে হাফিজ মো. তাওহীদুর রহমান বলেন, তারাবিহের নামাজে ইমামতি করা মানে শুধু নামাজ পড়ানো নয়, বরং পুরো মসজিদের মুসল্লিদের সঙ্গে এক আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হওয়া। প্রতিদিন নামাজ শেষে মুসল্লিদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অনুভব করি।
হাফিজ মো. তাওহীদুর রহমান তার আগামী দিনের পথচলা যেন কুরআনের আলোয় আলোকিত থাকে, সে জন্য তিনি সকলের দোয়া কামনা করেছেন। আল্লাহ যেন তাকে দ্বীনের খেদমত করার আরও বেশি সুযোগ দেন, তার কণ্ঠের তেলাওয়াত যেন আরও অধিক মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়, এবং তিনি যেন ইসলামের আলো ছড়িয়ে যেতে পারেন-এ কামনায় তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
