স্বপ্নজয়ে বাজিমাত মিলনের!
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক মিলন। পড়েছেন গণিত বিভাগে। একইসাথে সেকেন্ড মেজর হিসেবে জ্ঞান অর্জন করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর। দেশের পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পারি জমিয়েছেন কার্ডিফে। সেখানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন ডাটা সায়েন্স বিভাগে। এবার বিশ্ববিখ্যাত জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়ে স্বপ্নজয়ে বাজিমাত করলেন মিলন।
নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে চলতি মাসের শুরুতে জামার্নির শীর্ষস্থানীয় গাড়ি যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান BOSCH এ ডিপ লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক মিলন। তিনি শাবিপ্রবির গণিত বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। গণিতের পাশাপাশি ২০১৯ সালে তিনি সিএসই’তে সেকেন্ড মেজর সম্পন্ন করেছেন। এরপর তিনি ২০২০ সালে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে। কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২১ সালে ডাটা সায়েন্সে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর। এরপর বিভিন্ন জায়গায় কাজ করার সুযোগ হয়েছে তার।
তিনি সর্বশেষ ২০২২-২৩ সালে মেশিন লার্নিং বিজ্ঞানী হিসেবে যুক্ত ছিলেন এজাইল কিনেটিক লিমিটেডে। কর্মক্ষেত্রে এসব অভিজ্ঞতার কারণে তিনি নিজ ক্যারিয়ারে অনেকাংশে অগ্রসর হন। BOSCH হচ্ছে মোবিলিটি সলিউশন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি, কনজিউমার গুডস এবং এনার্জি অ্যান্ড বিল্ডিং টেকনোলজির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি পরিষেবার শীর্ষস্থানীয় একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এর বাইরেও BOSCH -এর এন্ড-টু-এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তি সমাধানের জন্য জার্মানির বাইরে ভারতে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। মিলন বলেন, শাবিপ্রবির গণিত বিভাগে প্রতি সেমিস্টারে প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত বিভিন্ন কোর্স থাকে যা প্রোগ্রামিং এ শুরু করার জন্য সাহায্য করে।
এছাড়াও সেকেন্ড মেজর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং থাকায় প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলো শেখার সুযোগ হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় দুই মেজরেই চূড়ান্ত বর্ষে মেশিন লার্নিং রিলেটেড টপিক নিয়ে থিসিস করায় মেশিন লার্নিংয়ের প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখতে সুবিধা হয় এবং এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ জন্মে। মিলন আরো বলেন, স্নাতক শেষে ডাটা সায়েন্সে স্নাতকোত্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি যুক্তরাজ্যে চলে যাই। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি একই বিভাগে কম্পিউটার ভিশন এবং মেশিন লার্নিং এ রিসার্চ সহযোগী হিসেবে যোগ দেই। এসময় অনেক রিয়েল ওয়ার্ল্ড ভিশন সমস্যা নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়।
তিনি আরো বলেন, সেখান থেকে পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের স্টার্টআপ এজাইল কিনেটিক লিমিটেড এ মেশিন লার্নিং সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ আসে। এসব কাজ করার সময় সেলফ-ড্রাইভিং কার এর প্রতি আগ্রহী বেড়ে যায়। কিন্তু এই বিভাগ মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি হওয়ায় ক্লাসিকাল কম্পিউটার ভিশন, ডিপ লার্নিং, হার্ডওয়্যার নিয়ে আমাকে পড়াশোনা করতে হয়। BOSCH এ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে মিলন বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার পর প্রাথমিক ভাবে ইন্টারভিউয়ের জন্য আমাকে সিলেকশন করে। এরপর তিনটি ধাপে আমার ইন্টারভিউ নেয় এবং প্রতিটা ইন্টারভিউয়ের মাঝে ৭-১০ দিন সময় থাকে।
ইন্টারভিউয়ের পর আমাকে ডিপ লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার পজিশনে অফার করা হয়। চলতি মাসের (নভেম্বর) ৬ তারিখে আমি এ পদে যোগ দিয়েছি। কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে মিলন বলেন, এখানে মূলত অটোনোমাস ড্রাইভিং এর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হয়। প্রথম প্রজেক্টগুলোর মধ্যে ইমার্জেন্সি ব্রেকিং সিস্টেম, স্মার্ট পার্কিং সিস্টেম, অ্যাডভান্সড ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম অন্যতম। তিনি আরো বলেন, অনেকের ধারণা থাকে এসব ফিল্ডে কাজ করতে কম্পিউটার সায়েন্স এ পড়াশোনা করা জরুরি। তবে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়েও মেশিন লার্নিং রিলেটেড কাজ করা যায়। সেলফ-ড্রাইভিং এ মূলত সফটওয়্যার এর পাশাপাশি হার্ডওয়্যার এ কাজ করার সুযোগ থাকে। এটাই আমাকে আগ্রহী করে তোলে। বর্তমান এ অবস্থানে আসতে পারায় শাবিপ্রবির গণিত বিভাগ ও সিএসই বিভাগের শিক্ষকদের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ।
