প্রিয়জন হারানোর বেদনায় সিলেট
উল্টো দিকে ওসমানী উদ্যান। অপরদিকে ছায়াঘেরা মায়া ভরা এক ছিমছাম বাড়ী। এতো বাহারী কারুকাজ বা বিলাশ বহুল বাড়ী নয়। অন্য দশজন সাধারণ মানুষের মতো ওই বাড়িটা। বাড়ীর চারদিকে সবুজ গাছপালা ছায়া দিচ্ছে। এই নীরব শান্ত একটি বাড়ীর বাসিন্দা সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যিনি বিশ্ব বরেণ্য একজন মনিষী। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ আবুল মাল মুহিত মাত্র কিছুদিন আগে বলেছিলেন আমি আবার বাড়ি আসব। সত্যনিষ্ঠ এই মানুষটি ঠিকই বাড়ী এসেছেন।
তবে এই আসাটা অন্য আসার মতো নয়। আবুল মাল আবদুল মুহিতের নিথর দেহটি শনিবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মৃত্যু সংবাদ পেয়ে আগে থেকেই আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও নানা শ্রেণী ও পেশার মানুষ আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাড়ি হাফিজ কমপ্লেক্সে জড়ো হয়ে ছিলেন। সন্ধ্যা থেকে সবাই অপেক্ষায় ছিলেন কখন এসে পৌঁছাবে সিলেটের এই অভিবাবকের লাশ।
বাড়ীর চারিদিক ছিলো শোকাবহ নীরব নিস্তব্দ। ঘরে ঘরে ছিলো একই আলোচনা সিলেটবাসী একজন সৎ নিষ্ঠাবান স্পষ্টবাদী ব্যক্তিত্বকে হারালো যার শূন্যতা কখনও পূরণ হবার নয়। তাঁর মৃত্যু সংবাদ শোনার পরপরই সিলেটের আকাশ যেন কালো মেঘে ঢেকে যায়।
সর্বত্র নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয়জনকে হারিয়ে সবাই যেন বাকরুদ্ধ হয়ে যান। পাশাপাশি সারা সিলেটজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। ঘড়ির কাটা যখন রাত ১০টা ছুই ছুই সে মুহুর্তে আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহবাহী এ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায় হাফিজ কমপ্লেক্সের আঙিনায়। এসময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখে অশ্রæ ঝরে প্রয়াতের সতীর্থ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বাড়ির কেয়ার টেকার, ড্রাইভার, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের।
আবুল মাল আবদুল মুহিত তাঁর জীবনের প্রাপ্তীতে মহাখুশী ছিলেন। শ্যামল সিলেটের কাছে দেওয়া সাক্ষাতকারে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন আছে তাঁর। যদিও বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেননি। কিছুদিনপূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে গুণীশ্রেষ্ঠ সম্মাননা প্রদান করা হয় এই কৃতি ব্যক্তিত্বকে। এতে তিনি মহাখুশি এবং মহাতৃপ্তি বোধ করেছিলেন। আবেগাপ্লুত হয়ে উঠেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে লেখা হয়েছে তিনি ঈদের আগে বাড়ি পৌঁছার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। অবশেষে এসেছেন তবে কফিনে ভরা সাদা কাপড়ের মোড়ানো অবস্থায়।
একজন অধ্যক্ষ লিখেছেন ‘এ অন্তর মুহিতে মোহিতময়/ হে কর্মবীর, প্রাজ্ঞজন/ চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়।
কেউ লিখেছেন বিদায় কিংবদন্তি, মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুন দোয়া করি।
আবার লিখা হয়েছে আলোকিত সিলেটের স্বপ্নদ্রষ্টা সিলেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবনাবসান।
আরেকটি পোস্টে একজন লিখিছেন সিলেটের কৃতি সন্তান আর সাবেক অর্থমন্ত্রী একাধারে ছিলেন ভাষা সৈনিক, লেখক, অর্থনীতিবিদ তাঁর মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
একজন তার পোস্টে লিখেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত যার নাম উচ্চারণ করলে আপনা-আপনি শ্রদ্ধাবোধ চলে আসে। সহজ সরল মনের মানুষ ছিলেন তিনি। সত্য বচনে ছিলেন বলীয়ান। আমরা তাকে চিরদিন মনে রাখবো।
