ফুলের রঙে রঙিন স্বপ্ন
হাওর নদীর মিশেল সুনামগঞ্জের সদর উপজেলায় গড়ে উঠেছে ফ্লাওয়ার লেক নামে নতুন একটি স্থান। সেখানে বিকাল হলেই পর্যটকরা ভিড় করেন। শহরের ব্যস্ততার ছাপ ও ক্লান্তি ভুলতে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে এই জায়গায় দর্শনার্থীরাও ছুটে যাচ্ছেন। গিয়ে সেলফি তুলছেন, প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার দিয়ে ছবিও তুলছেন। এতে নতুন আয়ের উৎস তৈরি হয়েছে সাত উদ্যোক্তাসহ দুই ফটোগ্রাফারের।
সাত উদ্যোক্তারা হলেন- আরিফুল ইসলাম, নুরুল আমিন, মো. রুবেল, আবু বাক্কার, শামীম আহমেদ, রতন মিয়া ও ফয়সাল। লালপুর গ্রামের এই উদ্যোক্তারা ছোট-খাটো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। করোনার সময়ে ব্যবসায় সুবিধা করতে না পেরে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করেছেন তারা। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে তাদের। ফ্লাওয়ার লেক সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের ডান পাশে অবস্থিত। সড়ক থেকে নেমেই ছোট একটি লেক। সে লেক পাড় হয়েই নানান ফুলের বাগান তৈরি করেছেন এই সাতজন। দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে নির্মাণ করেছেন ওয়াশরুম, ক্যান্টিন, লেকের উপর বাঁশের সেতু, নৌকা ও ছবি তোলার বিভিন্ন ইভেন্ট।
এদিকে এখন মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময় হলেও প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে ফাল্গুনের হাওয়া।ঋতুরাজ বসন্ত তার আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতির দরজায় কড়া নাড়ছে। বছর ঘুরে প্রকৃতির তার নানা পরিবর্তন পেরিয়ে আবার সেজেছে নতুন রূপে। ফ্লাওয়ার লেকের লাল, হলুদ ও সবুজ ফুল দর্শনার্থীদের খুব সহজেরই আপন করে নিচ্ছে।
দর্শনার্থীরা বলছেন, শহরের ক্লান্তি ভুলতে ফ্লাওয়ার লেক খুব ভালো জায়গা। এখানে রয়েছে সুন্দর একটি লেক। লেকে ঘুরে বেড়ানো জন্য রয়েছে দুটি নৌকা। ক্যান্টিন, বসার জায়গা ও লেকের উপর বাঁশ, কাঠের সেতু রয়েছে। তাই তারা এই ফ্লাওয়ার লেকে বিকাল হলেই ছুটে আসেন। টিকটকাররাও এখানে ভিডিও বানানোর জন্য ছুটে আসেন।
দর্শনার্থী পলি রায় বলেন, আমরা শহরে থাকতে থাকতে অনেক সময় হাঁপিয়ে যাই। এখানে আসলে গ্রামীণ পরিবেশের অনুভূতি পাওয়া যায়। এখানে লেক, নৌকা, সূর্যমুখী, গাঁদা, সিলভিয়া, কুসুমসহ সব ধরনের ফুল রয়েছে। এছাড়া দোলনা, ক্যান্টিন, বাঁশের সাঁকোও রয়েছে। এখানে এসেছি নিজেকে রিফ্রেশ করার জন্য। ভালো লাগে, মনে হয় গ্রামে চলে গেছি।
মো. হারানুর রশিদ বলেন, আমি প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। এখানে সব সময় ছবি তুলি। এই এলাকায় সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী এখানে হয়। শুক্রবার উপচে পড়া দর্শনার্থী আসেন। তাদের ছবি তুলে দিতে ভালো লাগে। এর জন্য প্রতিদিন হাজার পনেরশ টাকা আয় করতে পারি। এত দিন বেকার ছিলাম। এই ফ্লাওয়ার লেক হওয়ায় আমাদের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে।
ফ্লাওয়ার লেকের মালিক মো. রুবেল বললেন, এখানে একটি লেক আছে। সে লেক দেখে এখানে বাগান করার প্ল্যান আসে। পরে আমরা সাতজন প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে এখানে বাগান করেছি। নাম দিয়েছি ফ্লাওয়ার লেক। অল্প পুঁজি নিয়ে করোনার সময় শুরু হয় সূর্যমুখী ফুলের চাষ। এখন পর্যটক আসেন। প্রতিদিন এখান থেকে আয় হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।
গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের স্বাধীন বাজারের পাশে প্রায় ১০০ শতাংশ জমিতে এই বাগান করেছেন তারা। জমি তৈরি ও বীজ কেনা বাবদ খরচ হয়েছে ৯৪ হাজার টাকা। বাগানের ভেতরে বাচ্চাদের দোলনা ও অন্যান্য আসবাবপত্র দিয়ে সাজাতে টাকা খরচ করতে হয়েছে। এই দুয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে তাদের ‘স্বপ্ন ছোঁয়া সানফ্লাওয়ার গার্ডেন’।
বাগানের মালিক মো. রেজাউল করিম বললেন, আমরা ছয় বন্ধু মিলে গত বছরের মতো এবারো বাগান করেছি। মানুষকে আনন্দ ও নিজেদের কিছু উপার্জনের জন্য বাগান করি আমরা। আমরা যদি কিছু করতে পারি তবে গ্রামের অন্য বেকার তরুণরাও উদ্যোগ নিতে সাহস পাবেন। তবে এবার এখন পর্যটক গত বছরের মতো আসছেন না। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাগানে ফুল চলে আসছে। তবে কয়েক দিন পরে গত বছরের মতো দর্শনার্থী আসবেন বলে আশা করছেন তিনি।
