আবহাওয়া পরিবর্তন, সিলেটে বাড়ছে সর্দি-জ্বরের প্রকোপ!
আবহাওয়া রূপ বদলাচ্ছে সিলেটে। রাতে বৃষ্টি, দিনে হালকা রোদ। গড়ে তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, আদ্রতা ৭২%। সব মিলিয়ে বারবার চোখ রাঙাচ্ছে আবহাওয়া। একই সাথে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গত ২ দিন থেকে সিলেটে ঠান্ডা নামছে। ফলে চারদিকে বাড়ছে জ্বরের প্রকোপ ।
তবে- অনেকেই মনে করছেন বৃষ্টি ও রোদের কারণে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে আর এ কারণেই সাধারণ জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ।
কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ওমিক্রন বাড়ছে। বাংলাদেশেও দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুও। সিলেটেও প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু। গতকাল শনিবার ৮২১ জনের বিপরীতে ৮৮ জনের করোনার পজিটিভ আসে। তাই আবহাওয়ার অজুহাত না দেখিয়ে এখনই উচিত সবার সচেতনতা অবলম্বন করা। প্রয়োজনে বাইরে বের হলে মাস্ক পড়া, শারিরীক দুরত্ব মেনে চলা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রামে গঞ্জেও ধীরে ধীরে বাড়ছে সর্দি-জ্বর। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশী। অনেকেই করোনা আক্রান্তের ভয়ে ডাক্তারের পরামর্শে বাড়িতে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নগরীর ওষুধের দোকানদাররা বলেন, গত কয়েক দিনে সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথার ওষুধ বিক্রি হচ্ছে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশী। তাদের মতে জ্বর একটি স্বাভাবিক অসুখ। ফার্মেসি থেকে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ কিংবা এন্টিবায়োটিক সেবন করছেন তারা।
চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এ মৌসুমে ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। তবে অন্য বছরে জ্বর-সর্দি ৪-৫ দিনে সেরে গেলেও এবার তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এবারের জ্বরের ধরনও অনেকটা অচেনা। এ জ্বরের কারণে অসুস্থ ব্যক্তির শীত শীত ভাব, মাথা ব্যথা, শরীরে ও গিরায় ব্যথা, খাওয়ায় অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক ও চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, কাশি, ডায়রিয়া, অস্থিরতা ও ঘুম কম হতে পারে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় শ্যামল সিলেটকে বলেন, দিন দিন করোনা রোগী বাড়ছে। তাই এখনই সবাইকে সচেতন হয়ে চলাফেরা করতে হবে। সরকারের ১১টি বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। নতুবা করোনা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হতে সময় লাগবে না।
সিলেটে ওমিক্রন মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত- এমন প্রশ্নে ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, গেল বছরের তুলনায় এবার প্রস্তুতি অনেক। বিভাগীয় শহর সিলেট ছাড়াও বিভাগের বাকী সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালকে করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই হাসপাতালগুলোকে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ সিট ও অক্সিজেন রয়েছে। তবে- এগুলোর উপর নির্ভর করে অবাধ চলাফেরা করলে চলবে না। সবাইকে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলাফেরা করার প্রতি জোর দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, করোনাক্রান্ত রোগী কমে যাওয়ায় সিলেটের শহীদ সামসুদ্দিন হাসপাতাল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে আবারও করোনা রোগীদের জন্য ডিডিকেইটেড হাসপাতাল করা হবে।
হিমাংশু লাল আরো বলেন, সিলেট শহর ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে আরো জোড়ালো করা হয়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। হবিগঞ্জের বানিয়াচং, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদর হাসপাতালগুলোকে করোনা জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের প্রস্তুতি সম্পন্ন বলেন জানান তিনি।
এদিকে দিন দিন সর্দি ও জ্বরের প্রকোপ বাড়লেও সিলেটে কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। নগরীর খোলা বাজার, পাইকারী বাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মাস্ক পড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন। শারিরীক দুরত্ব তো নেই বললেই চলে। যানবাহনেও মানছেন না কেউ সরকারি বিধি নিষেধ।
নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, তালতলা, সোবহানিঘাট, কীনব্রিজের মুখ ও বাস টার্মিনাল এবং কদমতলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মানুষের ভিড়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে মানুষের জটলাও দেখা গেছে।
