২০ বছর আগে চুরি হওয়া শিল্পকর্ম এআইয়ের মাধ্যমে উদ্ধার
২০ বছর আগে চুরি হওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ছবি বিশ্লেষণ করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা চুরি যাওয়া চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য ও প্রত্নবস্তু শনাক্ত করছে বিশেষ এআই সফটওয়্যার। ইতালিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত শত মূল্যবান শিল্পকর্ম উদ্ধার করা হয়েছে। এখন অন্যান্য দেশও চুরি হওয়া সাংস্কৃতিক সম্পদ খুঁজে পেতে এআই ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ইতালির পারমায় একটি পুরাকীর্তি মেলায় অভিযান চালায় দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা পুলিশ। মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন শিল্পকর্মের ছবি তুলে সেগুলো একটি বিশেষ ডেটাবেজে পাঠানো হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি চিত্রকর্ম সন্দেহজনক হিসেবে শনাক্ত করে এআই ব্যবস্থা।
পরে তদন্তে দেখা যায়, ১৭ শতকের ওই চিত্রকর্মটি ২০০৪ সালে নেপলসের কাছের একটি গির্জা থেকে চুরি হয়েছিল। চোরেরা ছবিটির মূল অবয়ব বদলে সেটিকে অন্য চিত্রকর্মের মতো সাজিয়েছিল।
ইতালির পুলিশের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালভাতোর রাপিকাভোলি জানান, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্যবস্থাটি চালুর পর থেকে ৩০০টির বেশি বড় চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য এবং ১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ছোট প্রত্নবস্তু উদ্ধার করতে সহায়তা করেছে। এসব উদ্ধার করা সম্পদের মোট মূল্য ২০ কোটি ৩০ লাখ ইউরোর বেশি।
‘স্টোলেন ওয়ার্কস অব আর্ট ডিটেকশন সিস্টেম’ বা সোয়াডস নামের এআই প্রযুক্তিটি রং, নকশা ও আকৃতির সূক্ষ্ম মিল বিশ্লেষণ করে। কোনো চিত্রকর্মের অংশ কেটে পরিবর্তন করা হলেও এটি মূল শিল্পকর্মের সঙ্গে মিল খুঁজে বের করতে পারে। পাশাপাশি অনলাইন নিলাম, ই-কমার্স সাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চুরি হওয়া শিল্পকর্মের সন্ধান চালায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই একা চুরি হওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধার করতে পারে না। এটি শুধু সম্ভাব্য মিল শনাক্ত করে; তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দায়িত্ব মানুষেরই। দুর্বল মানের ছবি, ত্রিমাত্রিক বস্তুর ভিন্ন দিক থেকে তোলা ছবি এবং নকল শিল্পকর্ম শনাক্ত করাও প্রযুক্তিটির জন্য এখনো চ্যালেঞ্জ।
ইতালি ছাড়াও তুরস্ক, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে চুরি হওয়া শিল্পকর্ম শনাক্তে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। ইন্টারপোলের ‘আইডি-আর্ট’ ব্যবস্থাও বিভিন্ন দেশের ডেটাবেজের সঙ্গে ছবি মিলিয়ে নিখোঁজ সাংস্কৃতিক সম্পদ উদ্ধারে সহায়তা করছে।
সূত্র: বিবিসি

