আটটি ব্যাংকের ঘরে আসেনি কোনো রেমিট্যান্স
অক্টোবর মাসে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৮৭ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার ৩৪৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
রবিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে দেশের প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থের তথ্য জানা গেছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অক্টোবর মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে মোট ৫০ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া বিশেষায়িত দুটি ব্যাংকের মধ্যে শুধু বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমেই এসেছে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
অন্যদিকে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো, যার পরিমাণ ২১২ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। পাশাপাশি বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র ৪৯ লাখ ১০ হাজার ডলার। সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের এই অর্থ আয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
তবে এই সামগ্রিক সাফল্যের মধ্যেও ব্যাংকিং খাতের একটি বড় উদ্বেগের চিত্র সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত অক্টোবর মাসে মোট আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো ধরনের রেমিট্যান্স আসেনি। এই অচল ব্যাংকগুলোর তালিকায় রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল এবং বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের দুর্বল দুটি ব্যাংক যেমন আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকের ঘরেও কোনো রেমিট্যান্সের দেখা মেলেনি।
অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর করুণ দশার কারণে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমেও কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।
অর্থাৎ, অক্টোবর মাসে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের পুরো প্রবাহের ক্ষেত্রে এই আটটি ব্যাংক সম্পূর্ণ শূন্য হাতে রয়েছে। গ্রাহকদের আস্থার সংকট এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে এসব ব্যাংকের ওপর প্রবাসীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় আরও বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে। ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম দূর করে প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে ও দ্রুত স্বজনদের হাতে পৌঁছে দিতে নতুন নতুন নীতিগত সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তবে যে আটটি ব্যাংকে একটি সিঙ্গেল ডলারও আসেনি, সেগুলোর ওপর বিশেষ তদারকি বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
পরিশেষে, সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী গতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

