রাজনগরে ৬০ বছরের বসতি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা
২৫ পরিবারের চোখেমুখে অন্ধকার, আতঙ্কে গ্রামবাসী
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কালাইগুল ও মুটুকপুর গ্রামে অন্তত ২৫-৩০টি পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। উত্তরভাগ চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বসবাস করে আসা এসব পরিবারকে জোরপূর্বক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বসতবাড়ি হারানোর শঙ্কায় ওই এলাকায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনগরের উত্তরভাগ টিজি মৌজায় অবস্থিত ‘উত্তরভাগ চা বাগান’ ১৯৯২ সাল থেকে পলিমান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিজ নিয়ে পরিচালনা করছে। অন্যদিকে, বিলীন হয়ে যাওয়া বিমলানগর চা বাগানের মালিক সিদ্ধার্থ সাম ওই মৌজার ৪৬ একর জমির মালিকানা দাবি করে ২০১৩ সালে মামলা করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছরের ২৮ অক্টোবর আদালত উত্তরভাগ চা বাগানের পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের এই রায়ের পর থেকেই বাগান কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে বসবাসরত পরিবারগুলোকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, তারা পাকিস্তান আমল থেকে অর্থাৎ প্রায় ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই জমিতে সেমিপাকা ঘর ও গাছগাছালি লাগিয়ে বসবাস করছেন। এখন হঠাৎ কোনো নোটিশ ছাড়াই তাদের উচ্ছেদের পায়তারা করা হচ্ছে।
মুটুকপুর গ্রামের বাসিন্দা শামিম মিয়া বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে আমরা এখানে আছি। বাগান কর্তৃপক্ষ এখন আমাদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁইটুকু রক্ষায় আমরা মৌলভীবাজার জজ আদালতে মামলা করেছি।
আরেক বাসিন্দা ফুলেছা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, এখানে আমরা ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে আছি। এখন আমাদের তাড়িয়ে দিলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব? আমাদের কোনো যাওয়ার জায়গা নেই।
উত্তরভাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. লোকমান আহমদ চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী ওই ৪৬ একর জমির মালিকানা উত্তরভাগ বাগানের। এর মধ্যে ৭-৮ একর জমি এখনো বেদখলে রয়েছে। আমরা শুধু আমাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলেছি। কিন্তু কিছু ভূমিখেকো লোক সাধারণ মানুষদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের স্টাফদের ওপর হামলা করেছে।
তিনি আরও জানান, দুই দিন আগে দুটি পরিবার স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে দিলেও অন্য একটি পক্ষ উশৃংখল আচরণ করছে, যা থানায় জানানো হয়েছে।
বর্তমানে কালাইগুল ও মুটুকপুর গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। একদিকে ভিটেমাটি রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে দখল বুঝে নেওয়ার চেষ্টা—উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
