সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশে না যাওয়ার শপথ হেফাজতের
সিলেটে আয়োজিত বিএনপির গণসমাবেশে না যাওয়ার শপথ নিলেন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ'র হাজারও নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমার কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে আয়োজিত 'আজিমুশ্বান ইজতেমা' ময়দানে হাত উচিয়ে এ শপথ নেন আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তাদের শপথ করান আমীরে হেফাজত আল্লামা মুফতি মুহা. রশীদুর রহমান ফারুক পীর ছাহেব বরুনা।
এ সময় তিনি বিএনপির গণসমাবেশে না যেতে ওয়াদা করিয়ে বলেন, ‘কও আমরা বিএনপি মাহফিলে কেউ যাইতাম নায়।’ তাঁর কথায় সায় দিয়ে সবাই হাত তুলে বিএনপির সমাবেশে না যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
আমীরে হেফাজত আল্লামা মুফতি মুহা. রশীদুর রহমান ফারুক পীর ছাহেব বরুনা উপস্থিত সবাইকে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার পরামর্শ দেন। বলেন, এই মাঠে এখন (মঙ্গলবার রাত) থেকে ইজতেমা শুরু হলো। শেষ হবে শুক্রবার জুমার নামাজের পর।
তিনি আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে বলেন, ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম হলো- আত্মশুদ্ধির সংগঠন, ইসলাম, কালিমা ও মানুষকে নামাজের দিকে আহবান করার সংগঠন। আমরা শান্তিপ্রিয়, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা সালাত-সেজদা আর জিকিরের সঙ্গে এখানে আজ থেকে ইজতেমা শুরু করবো। ইনশাআল্লাহ কেউ কোনো ধরণের উগ্রতা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন।আর ইজতেমাতে আপনারা কেউ না থাকলেও আমি একা থাকব।’
এর আগে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে 'আজিমুশ্বান ইজতেমা'র তারিখ পেছনোর অনুরোধ জানানো হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের মুসল্লি ও হেফাজতের কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। তাই তাৎক্ষণিক ইজতেমা ময়দানে সিলেট জেলা ও মহানগর হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বশীলদের নিয়ে মাশওয়ারাহ (পরামর্শ) সভায় বসেন পীর সাহেব বরুণা।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আল হারামাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওলিউর রহমান, গোলাপগঞ্জ পৌর মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল, জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব, কাজিরবাজার মাদরাসার প্রিন্সিপাল সামিউর রহমান মুসা, সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন বি১৪১৮ এর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ইনুল ইসলামসহ আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার সকল দায়িত্বশীলরা।
এ প্রসঙ্গে পীর সাহেব বরুণা বলেন, ‘মোগলাবাজার থানার ওসির কথায় প্রথমে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। তিনি ইজতেমাস্থলে এসেই বলেন, আপনাদের প্রোগ্রাম হবেই হবে। কিন্তু কানে কানে বলেন, ১৮ নভেম্বরের পর করেণ। তখন বলি, আমরাতো লাখ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছি। আলেম উলামারাও আসতে শুরু করেছেন। এই মানুষদেরও সামাল দেওয়া কঠিন। আর আমাদের অনুষ্ঠান ১৮ তারিখ জুমার পর শেষ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় পেছানো যাবে না।’
আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিলেটৈ এ ইজতেমার আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৭ ও ১৮ নভেম্বর) দু’দিন ব্যাপী নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আজিমুশ্বান ইজতেমার স্থান নির্বাচন করা হয়। কিন্তু ১৯ নভেম্বর আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আয়োজন করায় সেখানে ইজতেমার আয়োজন করা যায়নি। ফলে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৭ ও ১৮ নভেম্বর) দু’দিন ব্যাপী দক্ষিণ সুরমার কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে ইজতেমার স্থান নির্ধারণ করা হয়।
ছবি: আজমল আলী ও ভিডিও: রোমান আহমদ
