মার খাওয়ার পাঁচদিন পর ছাত্রলীগের ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন ছাত্রদল নেতা
সিলেটের বিশ্বনাথে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ বকুলকে নিজ বাসভবনে ঢুকে মারধর, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ৭০ জন নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই।
মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম আহমদ ওরফে ‘চাক্কু শামীম’কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এজাহারে আরও ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বদরুল আলম, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ উপজেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রুকন, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মামুন, সহ-সভাপতি কয়েছ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ, রেজাউল ইসলাম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সালমান আহমেদ, প্রচার সম্পাদক পারভেজ আহমদ, যুবলীগ নেতা রাজন আহমদ অপু, খাজাঞ্চী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি এনামুল হক বিজয়, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আশিক আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রফিক আলীসহ ওয়াজিবুল মিয়া, হেলাল, আইদিদ আহমেদ, আবু আহমেদ তালহা, নাইম আহমদ ও আব্দুল হক কুতুব।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পৌর শহরের টিএনটি রোডস্থ নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন ছাত্রদল নেতা আব্দুল মজিদ বকুল। এ সময় প্রধান আসামি চাক্কু শামীমের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল সন্ত্রাসী বকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বকুলকে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি তার আলমারি ভেঙে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া বাসায় থাকা প্রায় ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পাঁচ দিন পর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

