কমলগঞ্জে ৫ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার ও বৃক্ষরোপণ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জি এলাকায় অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা প্রায় পাঁচ একর বনভূমি পুনরায় সবুজে ফিরিয়ে আনতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বন বিভাগ। দখলমুক্ত ভূমিতে নিবিড় বনায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশীয় প্রজাতির আড়াই হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল কালিঞ্জি এলাকায় বনভূমি দখল করে অবৈধভাবে কমলার বাগান গড়ে তুলেছিল। গত ১৬ জুলাই উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বনভূমিটি জবরদখলমুক্ত করে বন বিভাগ। জমিটি উদ্ধারের পর পুনরায় যাতে দখলের কবলে না পড়ে এবং ভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে, তা নিশ্চিত করতেই এই বনায়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের পরিচালন ব্যয় খাতের আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বনায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। রোপণ করা চারার মধ্যে রয়েছে বহেরা, চাপালিশ, কানাইডিঙ্গা, কালাউঝা, অর্জুন, চিকরাশি, রাতা ও জামসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির গাছ।
এ বিষয়ে রাজকান্দি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, বনভূমি জবরদখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা কিংবা ব্যক্তিগত বাগান করার সুযোগ নেই। উদ্ধার করা বনভূমি যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। বনায়নের পাশাপাশি এলাকাটিকে নিয়মিত টহল ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে, যেন দ্রুতই বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ফিরে আসে।
বনায়ন কার্যক্রমে রাজকান্দি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে আদমপুর, কামারছড়া ও কুরমা বিটের বিট কর্মকর্তাসহ বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা বন বিভাগের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের ফলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও পাখির খাদ্যসংস্থান বাড়বে এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
