এনসিপি নেতার মামলায় ওয়ালটন কর্মকর্তাদের জামিন
সিলেটের কানাইঘাটে কিস্তিতে কেনা ফ্রিজের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এনসিপি নেতার দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন ওয়ালটন প্লাজার ছয় কর্মকর্তা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার পর পুনরায় দস্যুতা ও ডাকাতির অভিযোগ এনে মামলা করায় উপজেলাজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ৯ জুন বড়চতুল ইউনিয়নের মুক্তাপুর গ্রামের শামীম আহমদ কানাইঘাট ওয়ালটন প্লাজায় ফ্রিজ কিনতে আসেন। সেখানে তার পরিচিত সিলেট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইউসুফের সাথে দেখা হয়। বোরহান উদ্দিন সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে শামীমের কাছ থেকে নগদে ৩২ হাজার ৮৫০ টাকা নিয়ে নিজের নামে কিস্তিতে ফ্রিজটি ক্রয় করেন। কিন্তু কিস্তির টাকা তিনি প্লাজায় জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন।
ওয়ালটন প্লাজার ব্যবস্থাপক সোহাগ হোসেন জানান, জুলাই ও আগস্ট মাসের কিস্তি বকেয়া থাকায় ২৪ আগস্ট কর্মকর্তারা বোরহান উদ্দিনের মহেষপুরের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বোরহান উদ্দিন কর্মকর্তাদের কক্ষের ভেতরে আটকে রাখার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তিতে দরজার ধাক্কায় তিনি কপালে সামান্য আঘাত পান।
ঘটনার দিন রাতেই কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে স্থানীয় জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপি নেতাদের নিয়ে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বোরহান উদ্দিন ইউসুফ ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিস্তি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি উল্লেখ করে ওয়ালটন কর্মকর্তাদের সাথে কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ করেন। বোরহান উদ্দিন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে পোস্ট দেন।
তবে এর কয়েকদিন পরই ৩১ আগস্ট তিনি সিলেটের আমলী ৫নং আদালতে ওয়ালটন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতি ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সালিশে উপস্থিত থাকা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা ফয়ছল আহমদ ও সদর ইউপি বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন মেম্বার। তারা জানান, বোরহান উদ্দিনের সম্মতিক্রমেই বিষয়টি সুন্দরভাবে মীমাংসা হয়েছিল। এখন ডাকাতি বা লুটের মতো গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা করাটা অনভিপ্রেত এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।
ভুক্তভোগী শামীম আহমদ জানান, বোরহান উদ্দিন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার নগদ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং কিস্তিতে নিজের নামে ফ্রিজ তুলে তাকে বিপাকে ফেলেছেন।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে ঘটনাটি সুন্দরভাবে মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বাদী আদালতে মামলা করায় সেটি থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বোরহান উদ্দিন ইউসুফ দাবি করেছেন, দলীয় নেতাদের নির্দেশে এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তিনি মামলার পথ বেছে নিয়েছেন।
বর্তমানে এই মামলাকে কেন্দ্র করে কানাইঘাটের সচেতন মহলে এনসিপি নেতার নৈতিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে ‘হয়রানিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
