শাল্লায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জায়গা নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষে উত্তেজনা
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্থানে ‘প্রেসক্লাব’র সাইনবোর্ড, দুই পক্ষে উত্তেজনা
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের বাণিজ্যিক কক্ষ ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৈধ চুক্তিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য বরাদ্দ করা জায়গায় ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’-এর সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত চুক্তিপত্র অনুযায়ী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ‘প্রস্তাবিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ স্থাপনের জন্য রনি সূত্রধর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হয়। ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত মেয়াদী এই চুক্তিতে মাসিক ২২ হাজার টাকা ভাড়া এবং ২ লাখ টাকা জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, ওই স্থান শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার কাজে ব্যবহারযোগ্য এবং অন্য কারো কাছে উপ-ভাড়া বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তারা ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ক্লিনিকের জন্য আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করেছেন। তবে গত ২৯ আগস্ট হঠাত করে ভবনের দুটি কক্ষে ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’ লেখা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, বাদল চন্দ্র দাস ও সন্দীপন দাস সুজন নামের দুই ব্যক্তি এই সাইনবোর্ড লাগানোর সঙ্গে জড়িত। এর পেছনে স্থানীয় অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বিপ্লব রায়ের ইন্ধন থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগী রনি সূত্রধর।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রেসক্লাবের পক্ষে কয়েকজন বিএনপি নেতার অবস্থান ও যোগাযোগ নিয়ে খোদ দলের ভেতরেই নানা প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমরা রনি সূত্রধরকে নিয়ম মেনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য ভবনটি ভাড়া দিয়েছি। যারা প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন, তারা আগে থেকেই সেখানে ছিলেন বলে দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো জামানত বা ভাড়ার টাকা পরিশোধ করেননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। দুই পক্ষকে নিয়ে বসে দ্রুতই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারি একটি ভবনের বাণিজ্যিক স্পেস নিয়ে এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বৈধ চুক্তির পরও স্থাপনা দখলে বাধা আসায় আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
