শাল্লার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩৮টি টিউবওয়েল স্থাপনের শ্রমিকদের ৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা পাওনা পরিশোধ না করা, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. হাফিজুর রহমান প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলামের নির্দেশনায় শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, মসজিদ ও মাদ্রাসায় ৩৮টি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ করেন হাফিজুর রহমান ও তার শ্রমিক দল। প্রতি ফুট ৪৫ টাকা মজুরি হিসেবে মোট ২২ হাজার ৮০০ ফুট কাজের পাওনা দাঁড়ায় ১০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন কিস্তিতে ৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রাখা হয়েছে। পাওনা টাকা দাবি করলে প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম শ্রমিকদের গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রাখার পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও টিউবওয়েল দেওয়ার নাম করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। উপজেলার কাশিপুর গ্রামের আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, একটি টিউবওয়েলের জন্য রাশিদুল ইসলাম তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন, কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও তিনি টিউবওয়েল পাননি এবং টাকাও ফেরত পাননি। একই গ্রামের জয়দেব চন্দ্র দাসও একই উদ্দেশ্যে ১০ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাল্লা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ে গিয়ে রাশিদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। অফিসের কর্মচারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অভিযোগের বিষয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করব এবং শ্রমিকদের পাওনা টাকা কেন দেওয়া হয়নি তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী মো. হাফিজুর রহমান তার কঠোর পরিশ্রমের বকেয়া মজুরি দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
