দিরাইয়ে পতিত জমি দখলের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় দুই গ্রামবাসীকে মারধরের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও ও সুনামপুর গ্রাম সংলগ্ন প্রায় ২০ একর পতিত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রফিনগর গ্রামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। জমি ভরাটে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিত্তাগাঁওয়ের দুই নিরীহ গ্রামবাসীকে মারধর এবং স্থানীয়দের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় কিত্তাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নির্মল তালুকদার (৫৯) বাদী হয়ে রবিবার দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও দিরাই থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি রফিনগর গ্রামের নুর হামিদ, আবু হানিফ মিয়া, সামাউন মিয়া, ফখরুল মিয়া, রুহুল আমিন, মজনু মিয়া ও তানভীর মিয়াসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিনগর ইউনিয়নের নয়াগাঁও মৌজার জেএল নং-১০, দাগ নং-৩-এর প্রায় ২০ একর পতিত জমি দীর্ঘদিন ধরে কিত্তাগাঁও ও সুনামপুর গ্রামের লোকজন বংশপরম্পরায় গোচারণ, খেলাধুলা ও কৃষিকাজের প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছেন। বর্তমানে বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত জমিটি অভিযুক্তরা স্টিলের নৌকায় ভিটি বালু ও পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ওই জমিতে গিয়ে বালু ফেলে জমি ভরাটের প্রস্তুতি নেন। এ সময় নির্মল তালুকদারসহ স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দিলে তারা বালু ফেলতে না পেরে চলে যান। এরপর থেকে অভিযুক্তরা স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নির্মল তালুকদার।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় বাংলাবাজারে সদাই-পাতি কিনতে যাওয়া কিত্তাগাঁও গ্রামের নির্মল তালুকদার ও মনোরঞ্জন তালুকদারকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। তারা দুজনেই দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকে নিরাপত্তার কারণে বাংলাবাজারসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করতে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তরা আবারও ওই পতিত জমি ভরাট করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এ অবস্থায় জমিটি রক্ষা এবং গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে ইউএনও সনজীব সরকার ও দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
