কুলাউড়ায় অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের প্রধান সড়কে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। অভিযানের প্রতিবাদে এবং আটক শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বুধবার দুপুরে পৌর শহরের সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় বিশ্বাস। অভিযানকালে যত্রতত্র পার্কিংয়ের দায়ে ৭টি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করে থানায় পাঠানো হয়। এ সময় পৃথক দুটি মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় সাইদুর রহমান নামে এক শ্রমিককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে কুলাউড়া থানা পুলিশ সহযোগিতা করে।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবহন শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা শহরের প্রধান সড়কের মাঝখানে গাড়ি এলোমেলোভাবে রেখে অবরোধ সৃষ্টি করেন। প্রায় এক ঘণ্টার এই অবরোধে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। শ্রমিকরা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে নানা আপত্তিকর স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন এবং একপর্যায়ে কুলাউড়া থানায় গিয়ে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দাবির বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে থানায় আটককৃত তিন শ্রমিককে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস জানান, শহরের মূল সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যানজট নিরসনে এই অভিযান চালানো হয়েছে। জনস্বার্থে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, যানজট নিরসনে এর আগে শ্রমিক নেতাদের নিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে প্রতিটি স্ট্যান্ডে সর্বোচ্চ দুটি করে গাড়ি থাকবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় জনস্বার্থে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, সাজাপ্রাপ্ত একজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকি তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (২৩৫৯) কুলাউড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমাছ আহমদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের ৫ দফা দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
