বালাগঞ্জে বাঘ আতঙ্ক
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্বগৌরীপুর ইউনিয়নের নতুন সুনামপুর গ্রামে বাঘ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা রাতে ডোরাকাটা বাঘ ও তার শাবক ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলে দাবি করার পর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে পূর্বগৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মুজিবুর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশে একটি সতর্কবার্তা দেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘রাত নামলেই বাড়ছে বিপদ! নতুন সুনামপুর গ্রামবাসীর প্রতি অনুরোধ, রাতের বেলা একা বের হবেন না। ঝোপঝাড়ের আশেপাশে চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। বাঘের আতঙ্ক কোনো গুজব নয়, বাস্তব বিপদ!’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাঘের অস্তিত্বের খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বন বিভাগ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান এম মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, পূর্বগৌরীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন সুনামপুর গ্রামের সাবেক এক ইউপি সদস্য তাঁকে প্রথম বিষয়টি অবহিত করেন। ওই সদস্য দাবি করেছেন, তিনি নিজের চোখে একটি ডোরাকাটা চিতাবাঘ ও তার শাবক দেখেছেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা একই দাবি করলে জননিরাপত্তার স্বার্থে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা প্রচার করেন।
তবে বাঘের অস্তিত্ব নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন চেয়ারম্যান। তাঁর ধারণা, ইন্টারনেটে বা ফেসবুকে যে ছবিটি ঘুরছে সেটি সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি হতে পারে। তবে স্থানীয়দের চাক্ষুষ দাবির কারণে বিষয়টিকে তিনি হালকাভাবে নিচ্ছেন না।
এদিকে চেয়ারম্যানের ফেসবুক পোস্টের পর পুরো বালাগঞ্জ উপজেলায় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, বন বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঘের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাঘের অস্তিত্ব সত্যি হলে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত ফাঁদ পেতে বা অন্য কোনো উপায়ে বাঘটি ধরার উদ্যোগ নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বন বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঘের উপস্থিতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন লাঠিসোঁটা নিয়ে সতর্ক অবস্থায় রাত কাটাচ্ছেন।
