নবীগঞ্জে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার ও দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আড়ালে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে নির্মল কান্তি দেব পলাশ নামের এক কলেজ শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) তাকে তার কর্মস্থল দুটি কলেজ থেকে অব্যাহতি ও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত নির্মল কান্তি দেব পলাশ নবীগঞ্জ পোস্ট অফিসের ই-তথ্য সেবা কেন্দ্রের পরিচালক এবং উপজেলার নয়মৌজা কলেজ ও এনায়েত খান মহিলা কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রোববার রাতে তাকে একাধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে এনায়েত খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তোফাজ্জুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে খণ্ডকালীন প্রভাষক (পৌরনীতি ও সুশাসন) পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় ১৬ আগস্ট থেকে তাকে কলেজের সকল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে নবীগঞ্জ নয়মৌজা কলেজের এক জরুরি সভায় তাকে প্রভাষক পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উত্তম কুমার দাশ জানান, পলাশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই বরখাস্ত আদেশ বহাল থাকবে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্মল কান্তি দেব পলাশ ই-তথ্য সেবা কেন্দ্রে কম্পিউটার ট্রেনিং দেওয়ার আড়ালে ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল ও শ্লীলতাহানি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে।
এ বিষয়ে এনায়েত খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তোফাজ্জুল ইসলাম চৌধুরী ও নয়মৌজা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উত্তম কুমার দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাত্রীদের সাথে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নির্মল কান্তি দেব পলাশকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তার অন্য কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
