ওসমানীনগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আ.লীগ নেতা আছান খাঁ গ্রেফতার
সিলেটের ওসমানীনগরে আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে উমরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জরিফ হোসেন ওরফে আছান খাঁকে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী। ১৪ আগস্ট রাতে র্যাব ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। শনিবার (১৬ আগস্ট) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁও গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা আছান খাঁ ও তার ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য হাজী নুর হোসেনের সাথে স্থানীয় শফিকুল ইসলাম গংদের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে গ্রামজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় দুই ডজন মামলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আছান খাঁর নেতৃত্বে এলাকায় নিয়মিত অস্ত্র প্রদর্শন, গুলিবর্ষণ, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে আসছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জুলাই মাসে লন্ডনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী শফিকুর রহমানের সাথে বৈঠক শেষে আছান খাঁ দেশে ফেরার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তার অনুসারীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতে শুরু করে। এমনকি পুলিশের অভিযান প্রতিহত করতে আছান খাঁ তার অনুসারীদের গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ ১৪ আগস্ট রাতে র্যাব ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তবে এই অভিযানে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী আছান খাঁকে রিমান্ডে নিয়ে অস্ত্রের উৎস এবং দীর্ঘদিনের সহিংসতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন।
আছান খাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও সহিংসতার মামলা রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে আছান খাঁর লোকজনের গুলিতে প্রতিপক্ষ শফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই গফফার নিহত হন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেদের পক্ষের লোক কুদ্দুসকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও রয়েছে আছান খাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারিও আছান খাঁর দুই সহযোগীকে অস্ত্রসহ আটক করেছিল যৌথ বাহিনী।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আছান খাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আজ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
