গ্যাস সংকট কাটিয়ে প্রাণ ফিরল ৮১ শিল্পকারখানায়
কয়েকদিনের তীব্র গ্যাস সংকট কাটিয়ে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গ্যাস সরবরাহ। শনিবার সকাল ৮টা থেকে পর্যায়ক্রমে ছোট-বড় ৮১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে ফিরতে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য। কয়েকদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় উদ্বেগে থাকা শ্রমিক, শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে স্বস্তি।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল থেকে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যায়। একপর্যায়ে গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে অধিকাংশ শিল্পকারখানার উৎপাদন লাইন চালু রাখা সম্ভব হয়নি। এতে মাধবপুর উপজেলার ২৪টি ভারী শিল্পকারখানাসহ জেলার প্রায় ৮১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
হঠাৎ গ্যাস সরবরাহে এমন বিপর্যয়ে শিল্পাঞ্চলে নেমে আসে স্থবিরতা। উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পড়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি উৎপাদন বন্ধ থাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে তেলিয়াপাড়ার ফার ইস্ট স্পিনিং মিলের জেনারেল ম্যানেজার সুমন আহমেদ বলেন, 'শনিবার সকাল থেকেই আমরা পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক গতিতে শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন আমরা চরম সংকটের মধ্যে ছিলাম। এখন গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।'
যমুনা শিল্পকারখানার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, 'শনিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে এবং শ্রমিকরা নিয়মিত কাজে যোগ দিয়েছেন। আশা করছি, আর কোনো সমস্যা হবে না।'
স্টার সিরামিকসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন মিঠু বলেন, 'সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করছি।'
শাহজীবাজার জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল) ব্যবস্থাপক মো. খালেদ গণি বলেন, 'শনিবার সকাল ৮টা থেকে ছোট-বড় ৮১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসের চাপও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।'
হবিগঞ্জ জেজিটিডিএসএলের আঞ্চলিক কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো. আলী আক্কাছ জানান, তাঁর অধীনস্থ ১৩টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের প্রবাহ বেড়েছে।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কয়েকদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলোতে ধীরে ধীরে উৎপাদন শুরু হয়েছে। শ্রমিকরাও কাজে ফিরতে শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসের চাপ স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক থাকলে দ্রুতই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং রপ্তানি কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন তারা। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বারবার গ্যাস সংকট দেখা দিলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
