শাল্লায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শাল্লায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার প্রতিনিধি আমির হোসেন। এ ঘটনায় শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম মাস্টারের বিরুদ্ধে হামলা, মোবাইল ভাঙচুর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে শাল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট মন্নানপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ঘর ভাঙার একটি ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক আমির হোসেন। এর পরদিন ১১ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের হসপিটাল রোড এলাকার মুসলিম ফার্মেসির সামনে বসে থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম মাস্টারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। হামলাকারীরা তাঁর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং তাঁর ব্যবহৃত প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন ভেঙে ফেলে। ফোনে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদসংক্রান্ত তথ্যও নষ্ট করে দেওয়া হয়। এছাড়া তাঁর পকেটে থাকা নগদ ১ লাখ ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। পরে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম মাস্টার অভিযোগটি ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, মাদ্রাসার জন্য আমরাই জায়গা দিয়েছি। মাদ্রাসা তার নিজস্ব জায়গায় থাকবে, এতে আমাদের কোনো বাধা নেই। হামলার অভিযোগটি সত্য নয়।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা এসআই শওকত আলী বলেন, সাংবাদিক আমির হোসেনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সংবাদকর্মীর ওপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

