ওসমানীনগরে উচ্ছেদ অভিযানের তোয়াক্কা নেই; পরদিনই মহাসড়ক দখল করে ব্যবসা
সাংবাদিকদের ওপর হামলায় নেই গ্রেফতার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানার পরদিনই প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ফের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা শুরু করেছেন ফল ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া। বুধবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তাকে জরিমানা ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার পুনরায় তাকে আগের জায়গায় ব্যবসা করতে দেখা গেছে। এদিকে, অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোয়ালাবাজার এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা তৈরি করে শাহীন মিয়াকে ভাড়া দিয়েছেন খছরু নামের এক ব্যক্তি। ওই স্থাপনায় ব্যবসা করার বিনিময়ে শাহীন মিয়ার কাছ থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। গত বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশার নেতৃত্বে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে শাহীন মিয়াসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ ফল জব্দ করে এতিমখানায় বিতরণ করা হয় এবং শাহীন মিয়াকে তার অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে বৃহস্পতিবার সকালেই তিনি পুনরায় দোকান বসিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।
অন্যদিকে, বুধবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে উপজেলা প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় ২০-২৫ জন ফুটপাত দখলকারী ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যায় ওসমানীনগর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযানের পর পুনরায় দখল হওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দখলদাররা বারবার বসার চেষ্টা করে, তাই আমরা একবারে ক্লিন করে আসছি। হাইওয়ে পুলিশ ও বাজার কমিটিকেও বিষয়টি কঠোরভাবে বলা হয়েছে যাতে কেউ পুনরায় বসতে না পারে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, কোনো তদবির কাজে আসবে না।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, বাজারের অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়েও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও অবৈধ স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের এমন অভিযানকে তারা স্বাগত জানান, তবে তা যদি নিয়মিত না হয় তবে গোয়ালাবাজার, তাজপুর ও দয়ামীরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলো কখনোই দখলমুক্ত হবে না। উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি জরুরি বলে তারা মনে করেন।
