‘বড় ভাই’ না ডাকায় মাদরাসা ছাত্রের শ্বাসনালি ও গোপনাঙ্গ কর্তন, গ্রেফতার ২
মৌলভীবাজারে পূর্ব শত্রুতা ও তুচ্ছ ঘটনার জেরে হাসান আহমদ (১৫) নামে এক মাদরাসা ছাত্রকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে শ্বাসনালি ও গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে ওই ছাত্র রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সালমান (২৬) ও নূর আলম (২৬)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকায় টাউন কামিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র হাসান আহমদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় একদল কিশোর অপরাধী। হামলাকারীরা হাসানের শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। নৃশংসতার একপর্যায়ে তারা হাসানের গলার শ্বাসনালি এবং গোপনাঙ্গ কেটে দেয়। এছাড়া পিটিয়ে তার বুকের পাঁজর ভেঙে দেওয়া হয় এবং মুখমণ্ডল থেঁতলে দেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেটে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সযোগে তাকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহত হাসান সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের গয়ঘর গ্রামের মিন্টু মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোর গ্যাং সদস্য ছানি, তাওহিদ ও রনিসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে হাসানের পূর্ব বিরোধ ছিল। অভিযুক্ত ছানি তাকে ‘বড় ভাই’ বলে সম্বোধন করার জন্য প্রায়ই চাপ সৃষ্টি করত। হাসান তাতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হতো। গত বুধবার রাতে শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুসুমবাগ এলাকায় ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা হাসানের পথরোধ করে এই নৃংশসতা চালায়।
এ ঘটনায় হাসানের পিতা মিন্টু মিয়া বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় ৯/১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে আসছিল। কিশোর গ্যাংয়ের এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
