রাজনগরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ নিয়ে উত্তেজনা
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির স্বেচ্ছাসেবী ও সুপারভাইজার বাছাইয়ের ফলাফল প্রকাশের পর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগে ‘সরকারবিরোধীদের’ প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা পরিষদে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালে এ উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৮ জন সুপারভাইজার এবং ৮২ জন তথ্য সংগ্রহকারী বাছাই করে গত সোমবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই তালিকা প্রকাশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, তালিকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে, অথচ যোগ্য বিএনপি কর্মীদের কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ মো. রুকন বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির একটি অংশ। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি দেখা যাচ্ছে। অনেক যোগ্য বিএনপি কর্মীকে বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ফলাফলের বিরুদ্ধে বুধবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করব।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সংক্ষুব্ধদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বাছাই করা হয়েছে। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তবে কারো যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়, যার রেশ ধরে আজ উপজেলা পরিষদে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
