মিয়ারচর খেয়াঘাটে টোল নিয়ে বিরোধের অবসান, ব্যবসায়ী ও মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে স্বস্তি
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত মিয়ারচর খেয়াঘাটের দখল ও দ্বৈত টোল আদায় নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান হয়েছে। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় সোমবার থেকে ঘাটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী তারা মিয়া, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সক্রিয় মধ্যস্থতায় এই বিরোধের নিষ্পত্তি ঘটে।
সমঝোতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইজারা দাবিদার আব্দুল ওয়াহিদ গং এবং শিশির আহমদ গং—উভয় পক্ষই আজ সোমবার থেকে খেয়াঘাটের টোল আদায় থেকে বিরত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকৃত ইজারাদার চূড়ান্ত না করা পর্যন্ত সাময়িকভাবে হাজী তারা মিয়ার নিযুক্ত লোকজন নির্ধারিত হারে টোল আদায় করবেন। এই আদায়কৃত টাকা গচ্ছিত রাখা হবে এবং পরবর্তীতে প্রশাসনের মাধ্যমে যিনি বৈধ ইজারাদার হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, তাকেই এই অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এই প্রস্তাবে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে।
এর আগে সকালে বাদাঘাট বাজারে বণিক সমিতির উদ্যোগে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। এই আলটিমেটামের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হলো।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল ওয়াহিদ গং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে এবং শিশির আহমদ গং শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেট থেকে ঘাটের ইজারা পেয়েছেন বলে দাবি করে আসছিলেন। দুই পক্ষ দুই পাড়ে পৃথকভাবে টোল আদায় করায় সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। স্থানীয়দের এই সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
