রাজনগরে শীতলপাটি শিল্পের ঐতিহ্য রক্ষায় সমস্যা ও সম্ভাবনা শীর্ষক কর্মশালা
ইউনেস্কো স্বীকৃত বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প শীতলপাটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা ও বিশ্ববাজারে এর চাহিদা তৈরির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের রাজনগরে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ‘শীতলপাটি শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই কর্মশালা ও নকশা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কনজারভেশন অফিসার মো. নাসিব ইসলাম অভির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, শীতলপাটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু বর্তমান সময়ে কাঁচামালের (মুর্তা বেত) সংকট, পর্যাপ্ত পুঁজির অভাব, প্লাস্টিক পণ্যের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এই শিল্প আজ অস্তিত্ব সংকটে। পরিবেশবান্ধব এই পণ্যকে রপ্তানিযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে এর আধুনিক নকশা উন্নয়ন ও কারুশিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, শীতলপাটি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এই বুনন শিল্পে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কারুশিল্পীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের গাইড লেকচারার মো. মনিরুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী, রাজনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আউয়াল কালাম বেগ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সোহেল, সীমান্তিকের জেলা টিম লিডার রেজাউল ইসলাম, ফিল্ড সুপারভাইজার হুসনেআরা ঝুমা, শীতলপাটি শিল্পী রমা দাস ও কারুশিল্পী প্রমেস দাস প্রমুখ।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় কারুশিল্পীদের জন্য মাসিক প্রণোদনা বা ভাতার ব্যবস্থা করা, নার্সারির মাধ্যমে মুর্তা বেতের চারা বিতরণ এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
