মজুরি বৃদ্ধি ও ৫% ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাহারের দাবিতে বড়লেখায় চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাহারের দাবিতে বিশাল গণবিক্ষোভ করেছেন চা-শ্রমিকরা। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগানের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নিউ সমনবাগ চা বাগান ও মোকাম ডিভিশনের বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ শ্রমিকসহ ছাত্র ও যুবকরা অংশ নেন। এসময় শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবির সপক্ষে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
নিউ সমনবাগ চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নারায়ণ কালোয়ারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাঙ্গাচরণ সাঁওতালের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে চা-শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও তারা বরাবরই অবহেলিত। বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী, অথচ চা-শ্রমিকদের মজুরি অত্যন্ত নগণ্য। জাতীয় সংসদে ৫০০ টাকা মজুরির প্রস্তাব এলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বক্তারা অবিলম্বে এই মজুরি কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে শ্রম অধিদপ্তর অবৈধ ও অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে। এতে শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা অবিলম্বে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য সুজিত কানু, সাবেক ইউপি সদস্য মতিলাল ঘাটুয়ার, সাবেক ইউপি সদস্য বুটন রিকমুন, বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন চাষা, মোকাম ডিভিশনের পঞ্চায়েত সভাপতি ফজল তাঁতি ও সাধারণ সম্পাদক চৈতন সাহা।
নারী শ্রমিকদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মনিমিতা বাকতি, সিলা রিকমুন এবং মোকাম ডিভিশনের জানকি গড়াইত।
বিক্ষোভকালে শ্রমিকরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’, ‘৫০০ টাকা মজুরি দিতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগানে বাগান এলাকা মুখরিত করে তোলেন। শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের এই তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং সাংগঠনিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
