দিরাইয়ে নাছির চৌধুরী এমপির অসুস্থতাকে ঘিরে ‘সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির এক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে শনিবার (৮ আগস্ট) দিরাই পৌরসভার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে দিরাই-শাল্লা আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে একটি ‘সিন্ডিকেট’ কর্তৃক সরকারি বরাদ্দ ও অনুদান ভাগ-বাটোয়ারার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতারা।
অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক সমর্থিত নেতাকর্মীদের আয়োজনে এই সমাবেশে বিপুল জনসমাগম ঘটে। উল্লেখ্য, ৬ আগস্ট এমপি অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীদের এক সমাবেশ থেকে আজকের এই কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসেন। সমাবেশ চলাকালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই গণসমাবেশ ও বিজয় র্যা লি সম্পন্ন হয়।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, দলের পদধারী নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি প্রতিনিধি। তাদের বাদ দিয়ে পিএস-এপিএস বা কোনো ব্যক্তিগত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দল পরিচালনা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতা ও অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যাদের অনেকে অতীতে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন। এই সিন্ডিকেট বর্তমানে সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা এবং ঈদের অনুদানসহ বিভিন্ন সহায়তা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সরকারি সুবিধার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, এক সময় যারা চোরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তারা এখন 'ডাকাত' লালন-পালন করছেন। নির্বাচনের সময় তারেক রহমানের নির্দেশে সকল বলয়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে বিজয়ী করলেও, বিজয়ের পর ওই সিন্ডিকেটের বাধার কারণে সংসদ সদস্য নেতাকর্মীদের ন্যূনতম ধন্যবাদ পর্যন্ত দিতে পারেননি।
দিরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকের সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রতি রঞ্জন দাস, জেলা বিএনপি সদস্য অশোক রায়, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী, সদস্য শোয়েব হাসান, অ্যাডভোকেট ওবায়দুর চৌধুরী মিশু, কামরুল ইসলাম, হাফিজ উদ্দিন, মাসুক মিয়া প্রমুখ।
এছাড়াও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মিলাদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী সাজু, সদস্য সচিব তানভীর চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা মাহমুদুল হাসান সাগর এবং উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক সৈদুর রহমান তালুকদার।
সমাবেশে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী কিংবা তার ঘনিষ্ঠজনদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই সমাবেশ এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
