কমলগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকা রোজিনা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্কুল শিক্ষিকা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রোজিনা বেগমকে (৩২) প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার এক বছর পর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি রেজাউল করিম সাগরসহ সকল আসামি বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকেই আসামিরা বাদী পক্ষকে মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধামকি ও আপসের প্রস্তাব দিচ্ছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৬ মে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ভাষানীগাঁও গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেকু মেশিন দিয়ে কৃষিজমির মাটি কাটছিলেন স্থানীয় আব্দুর রহিম। এতে বাধা দিতে গেলে রোজিনার বোনজামাই জালাল মিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে বাঁচাতে বড় ভাই হারুন মিয়া ও ছোট বোন শিক্ষিকা রোজিনা বেগম এগিয়ে এলে আব্দুর রহিম ও তার ছেলে রেজাউল করিম সাগরসহ সহযোগীরা তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রোজিনা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রোজিনা বেগম শুধু একজন স্কুল শিক্ষিকাই ছিলেন না, তিনি সিলেট আইন মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং একজন সফল নারী উদ্যোক্তাও ছিলেন। তিনি ভাষানীগাঁও গ্রামের ‘নবদূত পাঠশালা’র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক এবং মরহুম নিজাম উদ্দীনের কনিষ্ঠ কন্যা। তার ১২ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপন করলেও পরবর্তীতে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। প্রধান আসামি সাগর উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নিলেও পরে নিম্ন আদালতে হাজির হলে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তবে তিন মাস কারাভোগের পর তিনিও বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
বাদী ও নিহতের বড় ভাই শাহজাহান আহমদ অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। এখন আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। মামলা আপস করার জন্য চাপ দিচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। আমরা দ্রুততম সময়ে এই খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রনি তালুকদার বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত এবং মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আশা করছি আইনি প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।
