ছাতকে এনাম হত্যা মামলার রায়: দম্পতিসহ তিনজনের যাবজ্জীবন
সুনামগঞ্জের ছাতকে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তফা আনোয়ার এনাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই গ্রামের মৃত নূর মিয়ার ছেলে মো. দবির হোসেন, মৃত আব্দুস সালামের ছেলে সিহাব মিয়া এবং দবির হোসেনের স্ত্রী আছমা আক্তার লাভলী। রায় ঘোষণার সময় দবির ও সিহাব আদালতে উপস্থিত থাকলেও আছমা আক্তার লাভলী পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন নোয়ারাই এলাকার বাসিন্দা মো. কবির মিয়া ওরফে মো. কবির আহমদ এবং সিলেটের ফকিরপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাক।
নথি সূত্রে জানা যায়, ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে ভুক্তভোগী মোস্তফা আনোয়ার এনামের পরিবারের সাথে আসামিদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ২০২১ সালের ১৩ মে বিকেলে ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে আসামিরা পূর্বশত্রুতার জেরে লোহার রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে এনামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় এনামকে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ২০ মে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহতের ভাই মোস্তফা জুবায়ের বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন আহমেদ সোহেল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সালেহ আহমদ, মো. আব্দুল হামিদ এবং মো. আব্দুর গাফফার।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়তা করবে।
