শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে ১ মাস ধরে স্থবির আমদানি-রপ্তানি
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দরে দীর্ঘ এক মাস ধরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা বিরাজ করছে। ভারত সীমান্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়া, পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা জটিলতার কারণে এই বন্দরে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়েছেন, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত সরকার প্লাস্টিক ফার্নিচার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফল ও জুস এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। শেওলা স্থলবন্দরের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেকই আসত এই পণ্যগুলো থেকে। বর্তমানে এই বন্দর দিয়ে নামমাত্র রপ্তানি চললেও আমদানি প্রায় বন্ধ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এই বন্দর দিয়ে সাধারণত কয়লা, পাথর, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা আমদানি করা হতো। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে খাদ্যদ্রব্য, হস্তশিল্প, প্লাস্টিক পণ্য, হিমায়িত মাছ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শেওলা স্থলবন্দরের রেভিনিউ অফিসার প্রিয় দাসী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬ কোটি টাকা বেশি ছিল। তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই ভারতের অভ্যন্তরে সেতু ভেঙে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে জুলাই মাসজুড়ে রাজস্ব আদায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ভারতীয় ভিসা জটিলতার কারণে আমরা ওপারে গিয়ে নতুন বাজার ধরতে পারছি না। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ভারতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো সমাধান হয়েছে কি না, তা আমাদের জানানো হয়নি। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে ব্যবসায়ীরা পথে বসবেন।
এ বিষয়ে শেওলা স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহবুব হাসান বলেন, স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে আমদানি-রপ্তানি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দুই দেশের সীমান্ত ও শুল্ক কর্মকর্তাদের কার্যকর আলোচনা এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হলে দ্রুতই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে শেওলা স্থলবন্দরে।
