কুলাউড়ায় কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অনামিকা রায় (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার গলায় একটি দাগ থাকায় মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত অনামিকা উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মৃনাল কান্তি রায়ের ছোট মেয়ে। সে স্থানীয় ভূকশিমইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে অবস্থানকালে হঠাৎ অনামিকার শরীর খারাপ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অনামিকাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদকর্মী জানান, মেয়েটির গলায় একটি স্পষ্ট দাগ দেখা গেছে। এছাড়া শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
অনামিকার চাচা খোকন রায় বলেন, বিকেলে হঠাৎ শরীর খারাপ হওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি, কিন্তু ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শনিবার বিকেলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওসি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
শনিবার বিকেলে কলেজছাত্রীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
