দোয়ারাবাজারে সাবেক মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে ঘিরে বিতর্ক
স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পর ‘জোরপূর্বকের’ অভিযোগ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইউড়ি দারুসুসনাত বহুমুখী আলিম মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এ. এফ. এম. সৈয়দ হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়েছে। গত মার্চ মাসে শারীরিক অক্ষমতার অজুহাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর এখন তিনি ‘জোরপূর্বক পদত্যাগের’ অভিযোগ তোলায় স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত ৯ মার্চ ২০২৬ইং তারিখে অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেন নিজ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি বরাবর জমা দেন। ওই আবেদনে তিনি ব্যক্তিগত কারণ ও শারীরিক অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার অনুরোধ জানান। একই সাথে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার আপোষ নিষ্পত্তি ও বকেয়া বেতন প্রদানের দাবিও জানান তিনি। পদত্যাগের পর গভর্নিং বডি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার আবেদন গ্রহণ করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখে দোয়ারাবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬৪৩ নং নোটারি পাবলিকের (আপোষনামা) মাধ্যমে তিনি পুনরায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বিষয়টি স্বীকার করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত সি আর মামলা (৩৩৩/২০২৫) আপোষে নিষ্পত্তি করা হয়।
কিন্তু সম্প্রতি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক আবেদনে সুর পাল্টেছেন সাবেক এই অধ্যক্ষ। সেখানে তিনি দাবি করেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করে তার পদত্যাগপত্র নিয়েছেন। একই সাথে তিনি তার এমপিও ইনডেক্স বহাল রাখার আবেদনও করেছেন।
এ ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—যে ব্যক্তি নিজ হাতে আবেদন লিখে এবং আদালতের হলফনামায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগের অঙ্গীকার করলেন, তিনি এখন কীভাবে একে ‘চাপের মুখে পদত্যাগ’ বলে দাবি করেন?
এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, সৈয়দ হোসেন সম্পূর্ণ সজ্ঞানে এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। পুরো বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেই সম্পন্ন করা হয়েছে। গভর্নিং বডি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতেই তিনি বিদায় নিয়েছেন। এখন তিনি যে অভিযোগ করছেন, তা কেবল আমাকে হেয় করার অপচেষ্টা। আমি এর নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মসহ সৈয়দ হোসেনের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিক পর্যায়ে তদন্ত চলছিল। ওই তদন্তের ফলাফল ও আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতেই তিনি তখন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার কৌশল নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সাবেক অধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়টি তৎকালীন সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নলেজে ছিল এবং সম্পূর্ণ প্রকাশ্যেই তা সম্পন্ন হয়েছিল।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাবেক অধ্যক্ষের দুটি অবস্থানের মধ্যে চরম অসঙ্গতি বিদ্যমান। একদিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আইনি দলিলাদি, অন্যদিকে জোরপূর্বক পদত্যাগের নতুন অভিযোগ—এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
